চুরির অপবাদে ৪ শিশুকে বেল্ট দিয়ে নৃশংস মারধর, অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গণধোলাই

উত্তর দিনাজপুর: উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা এলাকায় মানবিকতা ও সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক হাড়হিম করা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। চুরির অপবাদ দিয়ে চারটি নিষ্পাপ শিশুকে ঘরে আটকে রেখে বেল্ট দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় মারধর করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় বিজেপি নেতা অর্জুন সরকারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার নৃশংস ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্ত নেতাকে রাস্তা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে গণধোলাই দেয়।
ঠিক কী ঘটেছিল ডালখোলায়?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জনৈক অর্জুন সরকার নামে ওই নেতা চুরির সন্দেহে চারজন নাবালককে একটি জায়গায় আটকে রাখেন। অভিযোগ, তিনি নিজের হাতে বেল্ট নিয়ে শিশুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ততক্ষণ মারধর করেন যতক্ষণ না তারা রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। শিশুদের আর্তচিৎকার এবং সেই পৈশাচিক মারধরের দৃশ্য কেউ একজন মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ডালখোলা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজিত জনতার পাল্টা আক্রমণ
ভাইরাল ভিডিও দেখার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা কয়েকশো মানুষ অভিযুক্ত অর্জুন সরকারের বাড়িতে চড়াও হন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত নেতাকে ঘর থেকে টেনে বের করে এনে জনসমক্ষে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাকে বাঁচাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত ভিড়ের হাত থেকে অর্জুন সরকারকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশি পদক্ষেপ
গুরুতর জখম অবস্থায় চারটি শিশুকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি অভিযুক্তের ওপর জনরোষের ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি দোষীকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহলদারি চলছে যাতে পরিস্থিতি আর কোনোভাবেই হাতের বাইরে না যায়।