তেহরানে থাকা ভারতীয়দের নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের মেঘ নিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামল ভারত। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার পারদ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং ইরানের পালটা যুদ্ধের প্রস্তুতির মাঝে তেহরানে বসবাসকারী হাজার হাজার ভারতীয়র নিরাপত্তা এখন মোদী সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রণক্ষেত্রের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, সতর্ক নয়াদিল্লি
শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ভারত সরকার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তের নজরদারি চালাচ্ছে। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হলে দ্রুত উদ্ধারকার্য বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, পরিস্থিতি যে কোনো সময় হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
কেন হঠাৎ রণংদেহি ট্রাম্প প্রশাসন?
আমেরিকার মসনদে বসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ওয়াশিংটন সূত্রে খবর, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তি বৃদ্ধি শুরু করেছে। আরব সাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে আমেরিকা কার্যত যুদ্ধের ড্রাম বাজিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের সাফ কথা, কূটনৈতিক সমাধান না মিললে সামরিক পথ বেছে নিতে তিনি দ্বিধা করবেন না।
জেনেভা বৈঠকে মেলেনি সমাধান, যুদ্ধের মহড়া শুরু ইরানেও
সম্প্রতি জেনেভাতে ইরান ও আমেরিকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও তাতে কোনো রফাসূত্র মেলেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিয়াভিট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে নতি স্বীকার করে আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। পালটা জবাব দিচ্ছে ইরানও। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং লাইভ-ফায়ার ড্রিলের মাধ্যমে তেহরান বুঝিয়ে দিয়েছে, আক্রান্ত হলে তারাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
আন্তর্জাতিক মহলে রেড অ্যালার্ট
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সতর্কবার্তা, পরিস্থিতি এক নিমেষে বিগড়ে যেতে পারে এবং তখন উদ্ধারকাজের সুযোগটুকুও থাকবে না। এই উত্তপ্ত আবহে ভারত কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে সাউথ ব্লক। এখন দেখার, এই বৈশ্বিক সংঘাত কূটনীতির টেবিলে থামে নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোনো নতুন অধ্যায় শুরু হয়।