রাস্তার আলো জ্বালাতে গিয়েই সর্বনাশ! তিন যুবকের লালসার শিকার গৃহবধূ, গাইঘাটায় তোলপাড়

রাস্তার আলো জ্বালাতে গিয়েই সর্বনাশ! তিন যুবকের লালসার শিকার গৃহবধূ, গাইঘাটায় তোলপাড়

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক ভয়াবহ এবং নক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকা। বাড়ির সামনে রাস্তার আলো জ্বালাতে গিয়ে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। অন্ধকার নামার মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার নৃশংসতা এবং পুলিশের তৎপরতা নিয়ে বর্তমানে উত্তপ্ত গোটা জেলা।

ঘটনার বিবরণ

অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির সংলগ্ন একটি ইলেকট্রিক পোল বা লাইট পোস্টে আলো জ্বালাতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় নির্জনতার সুযোগ নিয়ে তিনজন যুবক অতর্কিতে তাঁর ওপর চড়াও হয়। তাঁর মুখ চেপে ধরে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের একটি ঘন জঙ্গলে। সেখানে অসহায় মহিলার ওপর একে একে চলে পাশবিক অত্যাচার। গৃহবধূর দাবি, একজন তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং অন্যজন হাত চেপে ধরে রেখেছিল যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। তিন অভিযুক্তই তাঁকে বলপূর্বক ধর্ষণ করে বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন ওই মহিলা।

পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি

ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে ওই রাতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাইঘাটা থানায় হাজির হন নির্যাতিতা। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে তল্লাশিতে নামে। রাতেই অভিযান চালিয়ে অসীম বিশ্বাস ও মিঠুন পদ্মার নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে এই ঘটনায় জড়িত তৃতীয় অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তৃতীয় ব্যক্তির হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি

  • আদালতে পেশ: ধৃত দুই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
  • গোপন জবানবন্দি: নির্যাতিতা মহিলার গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
  • নমুনা সংগ্রহ: যে জঙ্গলটিতে এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে ফরেনসিক নমুনা ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
  • পলাতকের খোঁজ: তৃতীয় অভিযুক্তকে ধরতে শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে গাইঘাটা থানার বিশেষ দল।

বাড়ির দোরগোড়ায় এমন ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সমস্ত রকম আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *