‘সন্তান হারানোর মতো যন্ত্রণা’, প্রতিকুর বিদ্রোহে আবেগ বনাম শৃঙ্খলার লড়াইয়ে মুখ খুললেন সেলিম

‘সন্তান হারানোর মতো যন্ত্রণা’, প্রতিকুর বিদ্রোহে আবেগ বনাম শৃঙ্খলার লড়াইয়ে মুখ খুললেন সেলিম

ডায়মন্ড হারবারের দাপুটে যুব নেতা প্রতিকুর রহমানকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে চলা রাজনৈতিক টানাপড়েনে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারানোর ব্যক্তিগত ক্ষত— সেলিমের কথায় উঠে এল এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিকুর প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারিয়ে সেলিম সাফ জানান, তিনি কোনো আদালতের বিচারক নন যে তৎক্ষণাৎ রায় দেবেন। তবে ক্ষোভের রেশ কাটতেই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, কোনো দক্ষ কর্মীকে হারানো আসলে সন্তান হারানোর মতোই বেদনাদায়ক।

সংগঠন বনাম আবেগ: সেলিমের কড়া বার্তা

প্রতিকুর রহমানের সঙ্গে দলের দূরত্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সেলিম জানান, গত কয়েকমাস ধরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দলের অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং সেলিম নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি, উল্টে সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। প্রতিকুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মাঝেই সেলিম মনে করিয়ে দেন, প্রতিকুর রহমান যে ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠেছেন, তা দলেরই অবদান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই ধরনের কর্মীকে হারানো সন্তানের মৃত্যুর মতো বেদনার।” তবে রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে পরক্ষণেই তাঁর সংযোজন, “মা সন্তানের মৃতদেহ আগলে রাখে, এটা সায়েন্টিফিক নয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের নীতি ও সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিগত আবেগ স্থান পাবে না।

চিঠি বিতর্ক ও দলত্যাগের জল্পনা

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন প্রতিকুর রহমান দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ জেলা ও রাজ্য কমিটির সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। নাটকীয় মোড় নেয় তখন, যখন সেই ব্যক্তিগত চিঠি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশ পায়। নিজের গোপন চিঠি কীভাবে বাইরে এল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিকুর। দলের অন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জবাবদিহিও দাবি করেন।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?

সদ্য সমাপ্ত সিপিএম রাজ্য সম্মেলনে প্রতিকুরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা তাঁর দল ছাড়ার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর লড়াই আদর্শের সঙ্গে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু নেতার একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে তাঁর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে। মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, প্রতিকুর অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না তা সংবাদমাধ্যম থেকেই তিনি জেনেছেন। তবে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়মতো জানানো হবে। একসময়ের উদীয়মান এই বাম নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন মোড় নেয় এবং আলিমুদ্দিন স্ট্রিট তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *