ইউএসজি রিপোর্টে ছিল তিন সন্তান কিন্তু অস্ত্রোপচারের টেবিলে মিলল চারজন! বিরল ঘটনায় তাজ্জব চিকিৎসকরা

ইউএসজি রিপোর্টে ছিল তিন সন্তান কিন্তু অস্ত্রোপচারের টেবিলে মিলল চারজন! বিরল ঘটনায় তাজ্জব চিকিৎসকরা

মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরপাড়া থানার জামালপুরে এক অভাবনীয় এবং বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। স্থানীয় বাসিন্দা রিম্পা মণ্ডল ও বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের কোল আলো করে একসঙ্গে জন্ম নিল চার সন্তান। যার মধ্যে রয়েছে দুটি পুত্র এবং দুটি কন্যা সন্তান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যা অত্যন্ত বিরল হিসেবে গণ্য করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

পেশায় পুরোহিত বিশ্বজিৎবাবুর সঙ্গে বছর তিনেক আগে বিয়ে হয় রিম্পার। এর আগে একবার সন্তানসম্ভবা হলেও দুর্ভাগ্যবশত গর্ভেই সেই সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল। দ্বিতীয়বার রিম্পা গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই পরিবার ছিল অত্যন্ত সতর্ক। বহরমপুরের লালদিঘি সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ডা. অভিরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডা. ভোলানাথ আইচের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

চিকিৎসকদের অবাক করা অভিজ্ঞতা

আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রসবের আগে করা আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) রিপোর্টে চিকিৎসকরা কেবল তিনটি সন্তানের অস্তিত্বই টের পেয়েছিলেন। কিন্তু সিজারের সময় অস্ত্রোপচার টেবিলে ডাক্তাররা দেখেন তিনটি নয়, রিম্পার গর্ভে রয়েছে চারটি সন্তান। এই আকস্মিক প্রাপ্তিতে একদিকে যেমন পরিবারের সদস্যরা খুশি, তেমনই অবাক হয়েছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও।

বর্তমান শারীরিক অবস্থা

জন্মের ঠিক পরেই মা ও শিশুদের শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁদের বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন মা ও তাঁর চার সন্তান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে মা এবং চার নবজাতকই স্থিতিশীল রয়েছেন।

আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তার মেঘ

একসঙ্গে চার সন্তানের আগমনে খুশির জোয়ার বইলেও, কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাবা বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বিশ্বজিৎবাবু জানান, “ভগবানের আশীর্বাদে চার সন্তান পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে একসঙ্গে চার-চারটি শিশুর সঠিক লালন-পালন ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় রয়েছি।” চার সন্তানকে সুস্থভাবে বড় করে তোলার জন্য এখন সরকারি বা বেসরকারি সাহায্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এই পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *