২০২৬ সালে ধেয়ে আসছে চরম বিপদ! তিন গ্রহের ভয়ানক সংযোগে কি বিশ্বজুড়ে মহাপ্রলয় ঘনিয়ে আসছে

২০২৬ সালে ধেয়ে আসছে চরম বিপদ! তিন গ্রহের ভয়ানক সংযোগে কি বিশ্বজুড়ে মহাপ্রলয় ঘনিয়ে আসছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা

জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের অবস্থান এবং তাদের পারস্পরিক দৃষ্টি বিনিময় মাঝেমধ্যেই এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে, যা মানবসভ্যতা এবং বিশ্ব রাজনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আগামী ২০২৬ সালের শুরুতেই মহাকাশে তৈরি হতে চলেছে এমনই এক বিরল ও অত্যন্ত বিপজ্জনক যোগসূত্র। সূর্য, মঙ্গল এবং রাহুর এই ত্রিবেণী সঙ্গম নিয়ে এখন থেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন প্রথিতযশা জ্যোতিষীরা।

মহাকাশে অশুভ ত্রয়ীর মিলন

উজ্জয়িনীর বিখ্যাত জ্যোতিষাচার্য পণ্ডিত নলিন শর্মার গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গল গ্রহ মকর রাশি ত্যাগ করে কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করবে রাহু এবং সূর্য। অগ্নি তত্ত্বের কারক সূর্য ও মঙ্গল এমনিতে তেজস্বী হলেও জ্যোতিষশাস্ত্রে তাদের ‘ক্রূর গ্রহ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, রাহু হলো মায়া ও বিনাশের কারক এক ‘পাপ গ্রহ’।

আগামী ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত এই তিনটি বিধ্বংসী শক্তি কুম্ভ রাশিতে একত্রে অবস্থান করবে। এই কয়েক সপ্তাহ সময়কালকে আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজার আশঙ্কা

রাহু, মঙ্গল এবং সূর্যের এই সংযোগ কয়েক দশক পর পর ঘটে। পণ্ডিতদের মতে, এই অশুভ যোগের প্রভাবে শত্রু দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ অগ্নুৎপাতের মতো ফেটে পড়তে পারে। বিশেষ করে এমন এক যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে। অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র এবং পারমাণবিক শক্তির অপপ্রয়োগের ফলে বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক নিরপেক্ষ দেশও পরিস্থিতির চাপে পড়ে এই সংঘাতের অংশীদার হতে পারে।

আকাশপথে বিপর্যয় ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

সূর্য ও মঙ্গল মূলত অগ্নিতত্ত্বের গ্রহ, আর রাহু বায়ুতত্ত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে। বায়ু এবং অগ্নির এই সংমিশ্রণ বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতীতেও এই ধরনের গ্রহ সংযোগের সময় বড়সড় বিমান দুর্ঘটনা বা শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ আগুনের নজির রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৫ সালের আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার সময়েও আকাশে এই ধরনের অশুভ জোট পরিলক্ষিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের এই সময়কালে বিমান পরিষেবা ও কলকারখানার নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজযোগ নয় বরং রাজভঙ্গ

এই গ্রহগত অস্থিরতা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতিতেও।

  • বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সংকট: এই সময় বিশ্বের কোনও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আকস্মিক প্রয়াণ বা বড় ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
  • শেয়ার বাজারের ধস: বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেনসেক্স ও নিফটি সহ বিশ্ব বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ও বড় ধরনের পতন দেখা দিতে পারে।
  • সামাজিক অস্থিরতা: সাধারণ মানুষের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্বস্তির আলো কবে মিলবে?

জ্যোতিষ গণনা বলছে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি স্থায়ী হবে ১৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। ওইদিন সূর্য কুম্ভ রাশি ত্যাগ করে মীন রাশিতে প্রবেশ করলে বিষাক্ত এই গ্রহজট কাটতে শুরু করবে। তবে তার আগে পর্যন্ত গোটা বিশ্বকে এক চরম অস্থির ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *