১০ লক্ষ কোটির মহাপরিকল্পনা, এআই দুনিয়ায় পা রাখছেন মুকেশ আম্বানি

ভারতের প্রযুক্তিগত মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব বিপ্লবের সূচনা করতে চলেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি। ২০২৬ সাল থেকে পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাতের উন্নয়নে ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জিও প্ল্যাটফর্মস। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ এই যুগান্তকারী ঘোষণা করেন তিনি। আম্বানির মতে, একটা সময় মোবাইল ডেটা যেভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে এআই প্রযুক্তিও আগামী দিনে এক অভাবনীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
ভারতের জন্য আগামীর মহাপরিকল্পনা
মুকেশ আম্বানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগ কেবল কোনো ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য নয়, বরং ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে বিশ্বের দরবারে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আগামী ৬০ বছরের কথা মাথায় রেখে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য হলো, প্রতিটি ভারতীয় যাতে অতি সুলভ মূল্যে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা গ্রহণ করতে পারে এবং দেশের প্রবৃদ্ধির চাকাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
জিও-ব্ল্যাকরক এবং ভারতের ভবিষ্যৎ
মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় ব্ল্যাকরক-এর সিইও ল্যারি ফিঙ্ক এবং মুকেশ আম্বানি একমত হয়েছেন যে, আগামী ২০-৩০ বছর হতে চলেছে আক্ষরিক অর্থেই ‘ভারতের যুগ’। আম্বানি এবং ফিঙ্কের মতে, ভারতের বর্তমান প্রবৃদ্ধির যাত্রায় সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ করার এটিই শ্রেষ্ঠ সময়। রিলায়েন্স জিও যেভাবে দেশের টেলিকম ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছিল, ঠিক সেভাবেই এআই পরিকাঠামো তৈরিতেও সংস্থাটি নেতৃত্ব দেবে বলে আম্বানি আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার দিকে বড় পদক্ষেপ
ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে আম্বানি জোর দিয়ে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল একটি জল্পনা নয়, বরং এটি ভারতের কৌশলগত স্থায়িত্ব বজায় রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। রিলায়েন্সের এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের তরুণ প্রজন্মের জন্য যেমন কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, তেমনই বিশ্ববাজারে ভারতকে প্রযুক্তির এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।