দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়জয়কার! যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের পাহাড়ে দিশেহারা প্রশাসন

রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। গত ১৬ তারিখ থেকে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তিকরণ শুরু হতেই রাজ্যের জেলায় জেলায় দেখা গিয়েছে উপচে পড়া ভিড়। স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর— উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি হাতে নিয়ে হাজার হাজার যুবক-যুবতী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করছেন।
রেকর্ড গড়া পরিসংখ্যান: আবেদনকারীর সংখ্যায় বড় লাফ
সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৪২,৪৪,৬৫৭টি। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, শুধুমাত্র ওই একদিনেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৬,১৬,০২১টি আবেদন। এই বিপুল সংখ্যাই প্রমাণ করে দিচ্ছে রাজ্যের বর্তমান কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং সরকারি সহায়তার প্রতি সাধারণ মানুষের নির্ভরতা ঠিক কতটা।
শীর্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা: টপকে গেল মুর্শিদাবাদকে
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, আবেদনের নিরিখে সবাইকে টেক্কা দিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। গত ১৮ তারিখের রিপোর্ট অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ এগিয়ে থাকলেও, দু’দিনের মাথায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ৪,৪৩,৫১৮টি আবেদন জমা পড়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মুর্শিদাবাদ (৪,৩৯,৪৭৫) এবং উত্তর ২৪ পরগনা (২,৯৬,৯২০)।
অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া এবং হুগলিতেও আবেদনের সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান থেকেও বিপুল সাড়া মিলেছে। রাজধানী কলকাতায় আবেদনকারীর সংখ্যা ১,০১,৯২৯।
উত্তরবঙ্গের হালহকিকত
পিছিয়ে নেই উত্তরবঙ্গও। কোচবিহারে ১.৫৩ লক্ষ এবং জলপাইগুড়িতে ১.৪৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। পাহাড়ের জেলাগুলোতেও ছবিটা স্পষ্ট— দার্জিলিং থেকে ৭৪ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়লেও রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে কালিম্পং (১২,৪০৬) থেকে।
সহায়তা নাকি ‘বেকার ভাতা’? উঠছে প্রশ্ন
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল পরিষেবা এবং আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতেই এই ‘যুবসাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বহুগুণ বেড়েছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মাধ্যমিক পাশ করলেই যদি কাউকে ‘শিক্ষিত বেকার’ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে ৪২ লক্ষের এই বিশাল অঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থানের আসল কঙ্কালসার চেহারাটাকেই কি প্রকট করে তুলছে না? সরকারি পরিভাষায় এটি একটি ‘সহায়তা কর্মসূচি’ হলেও, সাধারণ মানুষের কাছে এটি মূলত ‘বেকার ভাতা’ হিসেবেই বেশি পরিচিতি পাচ্ছে। উচ্চশিক্ষিত যুবসমাজের এই দীর্ঘ লাইন কি রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও বড়সড় আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।