রণক্ষেত্র যাদবপুর, এসএফআই বনাম ডব্লিউটিআই সংঘর্ষে রক্তাক্ত ছাত্রী

কলকাতা: ফের একবার উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝেই হঠাত্ যেন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। সৌজন্যে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং ডব্লিউটিআই-এর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। শুক্রবার রাতে ‘মেডগালা’ (MedGala’26) উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিবাদ চরমে পৌঁছালে গুরুতর আহত হন এক ছাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এক অধ্যাপকও।
উৎসবের মেজাজেই লুকিয়ে ছিল অশান্তির বীজ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ডব্লিউটিআই-এর পক্ষ থেকে ‘মেডগালা’ নামে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথম থেকেই এই অনুষ্ঠানের নিয়মকানুন ও বৈধতা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল এসএফআই। শুক্রবার সেই আপত্তিই শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি এবং সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। চোখের নিমেষে ক্যাম্পাসের আনন্দময় পরিবেশ বদলে যায় আতঙ্কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
আহত ছাত্রী ও আক্রান্ত অধ্যাপক
উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন ভিড়ের মধ্যে পড়ে গিয়ে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হন। তাঁর আর্তনাদে ক্যাম্পাসে হুলস্থূল পড়ে যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। শুধু পড়ুয়াই নন, উত্তেজিত ছাত্রদের থামাতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির কবলে পড়েন এক অধ্যাপক। তাঁর গায়েও চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগের লড়াই
ঘটনার পর থেকেই দুই ছাত্র সংগঠন একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছে। এসএফআই-এর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই এই অনুষ্ঠান করা হচ্ছিল। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই-এর অভিযোগ, তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিকল্পিতভাবে ভেস্তে দেওয়ার জন্যই এসএফআই এই হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষই দাবি করছে, অন্য পক্ষই প্রথম উস্কানি দিয়েছে।
তদন্তের পথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
ক্যাম্পাসে এমন নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে আপাতত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন বারবার যাদবপুরের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির জেরে পঠনপাঠন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক কার ভুলে বা কার প্ররোচনায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেল, তা জানতে তদন্ত কমিটি গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে ক্যাম্পাসে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ফের একবার যাদবপুরের ছাত্র রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।