শংকর-উত্তম বন্ধুত্বের অন্দরমহল: ফিরে দেখা ‘চৌরাঙ্গী’র সেই সোনালী দিনগুলো

শংকর-উত্তম বন্ধুত্বের অন্দরমহল: ফিরে দেখা ‘চৌরাঙ্গী’র সেই সোনালী দিনগুলো

প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের কালজয়ী উপন্যাস ‘চৌরাঙ্গী’র ৬০ বছর পূর্তিতে উঠে এল লেখক ও মহানায়ক উত্তমকুমারের অটুট বন্ধুত্বের অজানা কাহিনী। এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে শংকর জানিয়েছেন, ১৯৬১ সালে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় থেকেই এই উপন্যাস নিয়ে প্রবল সমালোচনা ও ব্যঙ্গ সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। তৎকালীন বহু প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক তাঁর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পাঠকদের ভালোবাসায় ‘চৌরাঙ্গী’ আজ ১২৫তম সংস্করণে পৌঁছেছে। দেশি-বিদেশি বহু ভাষায় অনূদিত এই ধ্রুপদী সৃষ্টি আজও বিশ্বজুড়ে সমান জনপ্রিয়।

১৯৬৮ সালে পিনাকীভূষণ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় যখন ‘চৌরাঙ্গী’ চলচ্চিত্রায়িত হয়, তখন ‘স্যাটা বোস’ চরিত্রে উত্তমকুমারের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন লেখক। শংকর স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রিমিয়ার শো-তে তাঁর পাশেই বসেছিলেন মহানায়ক। সিনেমা শেষে উত্তমকুমার যখন উদগ্রীব হয়ে মতামত জানতে চান, শংকর অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে বইয়ের পাতার চেয়েও জীবন্ত হয়ে উঠেছে তাঁর পর্দার চরিত্রটি। এই ছবির হাত ধরেই তাঁদের পেশাদার সম্পর্কের বাইরে এক গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সূচনা হয়।

উত্তমকুমারের ময়রা স্ট্রিটের ফ্ল্যাটে আড্ডা থেকে শুরু করে সুপ্রিয়া দেবীর হাতের রান্না খাওয়া—তাঁদের হৃদ্যতা ছিল দেখার মতো। শংকরের মতে, উত্তমকুমার ছিলেন এক অত্যন্ত দিলদরিয়া ও আমুদে মানুষ। দীর্ঘ ছয় দশক পেরিয়ে এসেও সেই অমলিন বন্ধুত্বের স্মৃতি আজও লেখকের কাছে অত্যন্ত উজ্জ্বল। কঠোর পরিশ্রম আর ঈশ্বরের আশীর্বাদকেই এই কালজয়ী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি। শংকরের এই অকপট স্বীকারোক্তি বাঙালি পাঠক ও সিনেমা প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য প্রাপ্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *