‘প্রয়োজনে ভেঙে দিক পুরসভা!’ ফিরহাদের ‘ক্লাব রুম’ অধিবেশনকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ সজল ঘোষের

কলকাতা পুরসভার (KMC) মূল অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ থাকায় বারান্দার কাউন্সিলার্স ক্লাব রুমে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে তৃণমূলের সমান্তরাল ‘হাউস’ বসানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার অল-আউট আক্রমণে নামল বিজেপি। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ ও ‘নাটক’ বলে ব্যাখ্যা করে কলকাতা পুরসভা ভেঙে দেওয়ার দাবি তুললেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা পুরপ্রতিনিধি সজল ঘোষ।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যখন বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধি গ্রেফতার হচ্ছেন এবং ভাটপাড়া-হালিশহরের মতো পুরবোর্ডগুলিতে ধস নামছে, ঠিক তখনই কলকাতার মেয়র ও পুর-সচিবের এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে সজল ঘোষের এই হুঁশিয়ারি ছাব্বিশের রাজনৈতিক আবহে চরম উত্তাপ বাড়াল।
পুরসভা ফিরহাদ হাকিমের বৈঠকখানা নয়, তোপ সজলের
শুক্রবার পুরসভার সচিবের নোটিশে মাসিক অধিবেশন বন্ধ থাকার পরেও তৃণমূলের কাউন্সিলরদের নিয়ে যেভাবে বিকল্প সভা চালানো হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ উগরে দেন সজল ঘোষ। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন:
“কলকাতা পুরসভা কোনো তৃণমূলের পার্টি অফিস কিংবা ফিরহাদ হাকিমের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা নয়! এটা একটা স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে আইন ও নিয়ম মেনে অধিবেশন ডাকতে হয়। নিয়মের বাইরে গিয়ে ক্লাব রুমে মাইক ছাড়া যেভাবে সভা করা হলো, তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।”
অনাস্থা আনলে মেয়র বাঁচাতে পারবেন তো?
পুরসভার ভেতরে তৃণমূলের এই সমান্তরাল অধিবেশনকে স্রেফ ‘জনসাধারণের চোখে ধুলো দেওয়ার নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন সজল ঘোষ। একই সাথে মেয়রের উদ্দেশ্যে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অনাস্থা আনলে মেয়র নিজের বোর্ড বাঁচাতে পারবেন তো?”
সজল ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। ভাটপাড়া পুরসভার ৩০ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগ কিংবা বিধানসভায় তৃণমূলের রেজুলেশনে সই-বিতর্কের জেরে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ফাটল দেখা গেছে, তার আঁচ কলকাতা পুরসভাতেও পড়েছে কিনা, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে দলবদলু লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাই প্রয়োজনে এই অকেজো ও আইন অমান্যকারী পুরবোর্ড অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া উচিত।
একদিকে বারাসাতে তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিককে দেখে ‘চোর’ স্লোগান, অন্যদিকে কালনার অনিল বসুর গ্রেফতারি ও হুগলিতে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি— এই সবকিছুর মাঝে কলকাতা পুরসভার এই নজিরবিহীন জট আগামী দিনে কোন আইনি ও প্রশাসনিক মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।