কোন অংশ অবৈধ, আগে দাগিয়ে দিক পুরসভা! জোড়া নোটিসের জবাবে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

কোন অংশ অবৈধ, আগে দাগিয়ে দিক পুরসভা! জোড়া নোটিসের জবাবে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

কলকাতা পুরসভার অন্দরে চলা নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকট ও বারান্দার ‘ক্লাব রুম’ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক নতুন মেগা দ্বৈরথ সামনে এল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ঠিকানায় অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে জোড়া নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। এই ঘটনার দিন তিনেক পর অবশেষে নীরবতা ভেঙে সরাসরি কলকাতা পুর প্রশাসনকেই উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বাড়ির ঠিক কোন অংশটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে, পুরসভা আগে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত বা ‘মার্ক’ করে দিক।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যখন জেলাজুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন এবং হুগলিতে বেআইনি বহুতল ভাঙতে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বিজেপি বিধায়কেরা, ঠিক তখনই খোদ কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের বাড়ির ঠিকানায় নোটিস পাঠানো এবং তার জবাবে এই পালটা চ্যালেঞ্জ ছাব্বিশের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।

আগে ওরা জবাব দিক, তারপর আমি বলব: অভিষেক

নিজের বাসভবন ও কার্যালয়ের ঠিকানায় পুরসভার এই আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এতদিন কোনো মন্তব্য না করলেও, এদিন রণংদেহী মেজাজে ধরা দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা। পুরসভার নোটিসকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

“যাঁরা এই নির্মাণ নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা আগে গিয়ে কলকাতা পুরসভাকে প্রশ্ন করুন যে আমার বাড়ির ঠিক কোন অংশটা অবৈধ। আগে পুর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জবাব দিক এবং অবৈধ অংশটা নির্দিষ্ট করে দাগিয়ে দিক। তারা সেই চিহ্নিতকরণ করতে পারলে, তবেই আমিও তাঁদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেব। তার আগে নয়।”

পুরসভার অন্দরেই ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’? বাড়ছে জল্পনা

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কলকাতা পুরসভাকে ‘ফিরহাদ হাকিমের বৈঠকখানা’ বলে কটাক্ষ করে তা ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলছেন, ঠিক অন্যদিকে নির্বাচিত মেয়রের জমানাতেই দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বাড়িতে পুরসভার এই স্ক্রুটিনি ও নোটিস পাঠানোর ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দলেরই একাংশের মতে, নতুন সরকারের জমানায় পুর-প্রশাসনের ওপর আমলাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার কারণেই এই তৎপরতা। আবার পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, বাদুড়িয়ার প্রাক্তন বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম যেভাবে সম্প্রতি অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন, তার রেশ কাটতে না কাটতেই পুরসভার এই পদক্ষেপ আসলে তৃণমূলের অন্দরের ফাটলকেই আরও বেশি করে প্রকাশ্যে এনে দিল।

একদিকে যখন ডেবরায় এবিভিপি-র পতাকা খোলা নিয়ে ধুন্ধুমার চলছে, আর অন্যদিকে কালনা-ডানকুনিতে একের পর এক কাউন্সিলর শ্রীঘরে যাচ্ছেন, সেই কঠিন সময়ে কলকাতার এই ‘নোটিস বনাম চ্যালেঞ্জ’ যুদ্ধ আগামী দিনে কোন আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় এবং পুরসভা অভিষেকের বাড়ির অবৈধ অংশ শেষ পর্যন্ত দাগিয়ে দিতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *