সীমান্তে চরম উত্তেজনা! বিজিবি-র বাধায় ‘অ্যাকশন মুড’-এ বিএসএফ

সীমান্তে চরম উত্তেজনা! বিজিবি-র বাধায় ‘অ্যাকশন মুড’-এ বিএসএফ

কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিবের হাই-প্রোফাইল সফর এবং দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে মেগা বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতি। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে শুক্রবার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিকেলের দিকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) কার্যত মুখোমুখি ‘অ্যাকশন মুড’-এ চলে আসে।

নয়া দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন “অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভারতীয় করদাতাদের পয়সা নষ্ট করা হবে না” বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তে এই সংঘাতের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বেড়া নির্মাণে বিজিবি-র বাধা, রুখে দাঁড়াল বিএসএফ

সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই মেখলিগঞ্জের তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন জিরো লাইনের ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি পরিমাপ এবং খুঁটি পোঁতার কাজ শুরু করে বিএসএফ ও সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থা। দীর্ঘদিনের অরক্ষিত এই সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু কাজ কিছুটা এগোতেই ওপার থেকে এসে তীব্র আপত্তি জানায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জিরো লাইনের খুব কাছাকাছি এই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।

বিজিবি-র জওয়ানেরা কাজ বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ভারতীয় ভূখণ্ডের সুরক্ষায় কোনো আপস না করার নীতি মেনে অনড় অবস্থান নেয় বিএসএফ। কোনো রকম বাধা বা হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন এবং জওয়ানদের কড়া নজরদারির মাঝেই সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ পুরোদমে সচল রাখা হয়।

সীমান্তে হাই-অ্যালার্ট, মোতায়েন অতিরিক্ত বাহিনী

কাজ বন্ধ না হওয়ায় বিকেলের দিকে ওপার থেকেও অতিরিক্ত বিজিবি জওয়ান এনে সীমান্তে মোতায়েন করা হয়। পাল্টা হিসেবে ভারতীয় সীমান্তেও বিএসএফের বাড়তি ব্যাটালিয়ন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত জওয়ানদের পজিশন নিতে দেখা যায়। দুই দেশের বাহিনীর এই রণংদেহী অবস্থানকে কেন্দ্র করে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ডেবরা মহাবিদ্যালয়ে এবিভিপি-র পতাকা খোলা নিয়ে ধুন্ধুমার চলছে এবং কলকাতা পুরসভার নোটিসের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন— সেই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের মাঝেই তিনবিঘা করিডরের এই সীমান্ত সংঘাত মোদী-শুভেন্দু ডবল ইঞ্জিন সরকারের কড়া বিদেশ ও সীমান্ত নীতিরই প্রতিফলন। নয়া সরকারের স্পষ্ট গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর বিএসএফ যে দেশের এক ইঞ্চি জমিও অরক্ষিত রাখবে না এবং অনুপ্রবেশ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই কাজ শেষ করবে, মেখলিগঞ্জের এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতেও সীমান্তে হাই-অ্যালার্ট জারি রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *