ডাম্পারের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু, হাসপাতালে আশঙ্কাজনক শিক্ষক স্বামী

ডাম্পারের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু, হাসপাতালে আশঙ্কাজনক শিক্ষক স্বামী

রাজারহাটের বুথ বিতর্ক এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কুণাল ঘোষের ‘কচ্ছপ পোস্ট’-এর তীব্র উত্তেজনার মাঝেই, উত্তরবঙ্গ থেকে এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক পথ দুর্ঘটনার খবর সামনে এল। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে একটি বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন কাকলি সরকার নামে এক তরুণী। এই মেগা দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী চঞ্চল সরকার, যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। বর্তমানে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর পরই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

বিগত কয়েকদিন ধরে উত্তরবঙ্গের তিনবিঘা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া ঘিরে উত্তেজনা এবং বীরপাড়ায় বিজেপির ‘বুলডোজার’ ধন্যবাদ যাত্রার খবরের সমান্তরালে, গঙ্গারামপুরের এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।

ঠ্যাঙাপাড়া-কড়িয়াল এলাকায় ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে মেগা দুর্ঘটনা

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালের দিকে শিক্ষক চঞ্চল সরকার তাঁর স্ত্রী কাকলি সরকারকে সাথে নিয়ে বাইকে করে যাচ্ছিলেন। গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত ঠ্যাঙাপাড়া-কড়িয়াল এলাকায় ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের (NH 512) ওপর একটি দ্রুতগামী ও বেপরোয়া ডাম্পার পিছন থেকে তাঁদের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় বাইক থেকে ছিটকে রাস্তার ওপর পড়েন দম্পতি।

দুর্ঘটনার মূল খতিয়ান:

  • ঘটনাস্থলেই মৃত্যু: ডাম্পারের চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তরুণী কাকলি সরকারের।
  • হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামী: গুরুতর রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিক্ষক চঞ্চল সরকারকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এলাকায় তীব্র উত্তেজনা, পলাতক চালকের খোঁজে পুলিশ

৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। জাতীয় সড়কে বেপরোয়া বালি ও পাথর বোঝাই ডাম্পারের লাগাতার দাপট এবং ট্রাফিক পুলিশের নজরদারির অভাবকে দায়ী করে উত্তেজিত জনতা পথ অবরোধের চেষ্টা করে। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হলে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই ঘাতক ডাম্পারটি নিয়ে চালক দ্রুত চম্পট দেয়। ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করতে এবং পলাতক ডাম্পার চালকের খোঁজে চারদিকে নাকা চেকিং শুরু করার পাশাপাশি জোর কদমে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।

একদিকে যখন রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভুয়ো বেতন রুখতে নবান্নে ‘ম্যানপাওয়ার অডিট’ শুরু হয়েছে এবং অন্যদিকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে ক্যানসার ও হার্টের মেগা চিকিৎসার তালিকা প্রকাশ করে কেন্দ্র সরকার প্রচার চালাচ্ছে— সেই প্রশাসনিক ও সামাজিক আবহের মাঝেই গঙ্গারামপুরের এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গভীর শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *