শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু, রাজ্যের সমস্ত দফতরে শূন্যপদের নিখুঁত হিসেব চাইলেন CM শুভেন্দু অধিকারী

বেহালায় দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের গ্রেফতারি এবং ৫ বছর আগের ফেসবুক পোস্টের জেরে অভিনেতা পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে বারাসাত থানায় নতুন এফআইআর (FIR)-এর তীব্র আলোড়নের মাঝেই, রাজ্যের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ছাব্বিশের সবচেয়ে বড় এবং বহুল প্রতীক্ষিত মেগা সুখবরটি সামনে এল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল এবং কাজের গতি রকেটের গতিতে বাড়াতে এবার সরাসরি কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের কোন সরকারি দফতরে এই মুহূর্তে ঠিক কত সংখ্যক শূন্যপদ (Vacancies) পড়ে রয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিখুঁত হিসেব চেয়ে পাঠালেন তিনি।
আগামী ৩ জুনের মধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এবং কমপ্লিট রিপোর্ট খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ার এক চরম ও চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে শনিবার নবান্নের তরফে এক মেগা নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের (Additional Chief Secretary) স্বাক্ষর করা এই কড়া নির্দেশিকা সামনে আসতেই সরকারি অলিন্দ থেকে শুরু করে বেকার যুবকদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা তৈরি হয়েছে।
অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কড়া বিজ্ঞপ্তি, ডিরেক্টরদের ওপর মেগা দায়িত্ব
নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার জারি হওয়া এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট এবং বিভাগীয় প্রধান বা ডিরেক্টর পদাধিকারীদের (Directors) এই শূন্যপদের খতিয়ান তৈরির সুনির্দিষ্ট ও একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন দফতরে গ্রুপ-এ, গ্রুপ-বি থেকে শুরু করে গ্রুপ-ডি এবং ক্লার্ক স্তরে কতগুলি স্থায়ী পদ খালি রয়েছে, কতজন কর্মী আগামী কয়েক মাসে অবসর নিতে চলেছেন এবং কাজের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ঠিক কত সংখ্যক নতুন কর্মী নিয়োগ করা জরুরি— তার একটি স্বচ্ছ রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। ৩ জুনের ডেডলাইন কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন।
দ্রুতই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু, আশার আলো চাকরিপ্রার্থীদের মনে
ওয়াকিবহাল মহল ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপ আদতে বাংলায় এক বিশাল ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ারই স্পষ্ট পূর্বাভাস। দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত সরকারি দফতরে কর্মী সংকটের কারণে কাজ থমকে ছিল বা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছিল, নব্য সরকার সেই জট দ্রুত কাটাতে চাইছে।
এর পেছনে মূলত দুটি বড় প্রশাসনিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা:
- কাজের গতি বৃদ্ধি: বিভিন্ন দফতরে শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করে প্রশাসনিক স্তরে গতি আনা এবং বকেয়া কাজগুলি ‘মিশন মোড’-এ শেষ করা।
- স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থান: লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহারে দেওয়া মেগা গ্যারান্টি অনুযায়ী, দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে যুবকদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করে রাজ্যে সুশাসনের বার্তা প্রতিষ্ঠা করা।
একদিকে যখন আজ রবিবার বিকেলে নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মহাসংবর্ধনাসভাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরে সাজ সাজ রব এবং অন্যদিকে কুণাল ঘোষের ‘কচ্ছপ পোস্ট’ ও গারুলিয়া পুরসভার ১১ জন কাউন্সিলরের গণ-ইস্তফা নিয়ে রাজ্যের বিদায়ী শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে— সেই অলআউট রাজনৈতিক যুদ্ধের সমান্তরালে, নবান্নের এই ‘শূন্যপদ পূরণের’ মেগা মাস্টারস্ট্রোক ছাব্বিশের পরিবর্তিত বাংলায় লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকদের মনে এক নতুন ভোরের এবং আশার আলো সঞ্চার করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ৩ জুনের পর এই রিপোর্টের ভিত্তিতে নব্য সরকার নতুন কী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আনে, এখন সেদিকেই পাখির চোখ সবার।