অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ক্ষোভ আর মুকুল-শুভেন্দুর দলবদল নিয়ে এবার মুখ খুললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ক্ষোভ আর মুকুল-শুভেন্দুর দলবদল নিয়ে এবার মুখ খুললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। সরাসরি নাম না নিলেও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তীব্র শ্লেষ এবং একসময়ের সতীর্থ মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দলবদল নিয়ে তাঁর গলায় গভীর আক্ষেপ ঝরে পড়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দলের পুরনো সতীর্থদের চলে যাওয়া এবং অন্ধ স্নেহের তত্ত্ব

দল ছাড়ার প্রসঙ্গে নিজের পুরনো সহকর্মীদের পক্ষে একপ্রকার সওয়াল করেছেন প্রাক্তন এই হেভিওয়েট নেতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মুকুল ও শুভেন্দুর মতো বড় মাপের নেতারা দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। বর্তমান বিরোধী শিবিরের প্রথম সারির নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজকের দিনে বর্তমান শাসকের সামনে যে কটা শক্তিশালী মুখ রয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই তৃণমূলের প্রাক্তন সহকর্মী। এর পরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁদের আটকে রাখার কোনো চেষ্টা কেন করা হলো না। একজনের একনায়কতন্ত্রের মনোভাবের কারণেই কি সবাই চলে যেতে বাধ্য হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর সিদ্ধান্তকেও পরোক্ষভাবে নিশানা করে পার্থবাবু মন্তব্য করেন যে, এখানে বোধহয় দিদির অন্ধ স্নেহ এবং অন্ধ ভালোবাসাই কাজ করেছে, যার খেসারত দলকে দিতে হচ্ছে।

তৃণমূলের অন্দরে প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্বের নতুন মাত্রা

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বয়ান আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের দীর্ঘদিনের প্রবীণ বনাম নবীন দ্বন্দ্বকে আবার প্রকাশ্য এনে দিল। একসময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের এই ক্ষোভ স্পষ্ট করে দেয় যে, দলে পুরনো ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের চেয়ে যেভাবে নতুন নেতৃত্বের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, তা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এই মন্তব্যের ফলে একদিকে যেমন বিরোধী শিবির শাসকদলকে আক্রমণ করার নতুন অস্ত্র পেয়ে গেল, অন্যদিকে জেলের ভেতরে থেকেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় দলের বর্তমান চালিকাশক্তিকে যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, তা আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *