নগ্ন মূর্তি! বিতর্কিত শিল্পকর্ম ভেঙে ফেলল পুরসভা

নগ্ন মূর্তি! বিতর্কিত শিল্পকর্ম ভেঙে ফেলল পুরসভা

কলকাতার একটি পাবলিক শৌচালয়ের প্রবেশদ্বারের সামনে বসানো একাধিক অদ্ভুত নগ্ন মূর্তি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে শহরের বুকে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে এই ধরণের আপত্তিকর ও কুরুচিকর মূর্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মহলের একাংশ সরব হন। জানা গেছে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিশেষ উদ্যোগে এই মূর্তিগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে কোনো হেলদোল না থাকলেও, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই নিয়ে নতুন করে জনমানসে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবশেষে কোনো রকম বিতর্ক বাড়তে না দিয়ে তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুর কর্তৃপক্ষ।

জনসাধারণের আপত্তি ও নান্দনিকতার প্রশ্ন

শহরের একটি ব্যস্ততম এলাকার পাবলিক শৌচালয়ের সামনে এই ধরণের নগ্ন মূর্তি বসানো নিয়ে প্রথম থেকেই নান্দনিকতার প্রশ্ন উঠছিল। সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জনবহুল রাস্তায় যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন, সেখানে এই ধরণের অদ্ভূত শারীরিক গড়নের নগ্ন মূর্তি স্থাপন কোনোভাবেই সুস্থ রুচির পরিচয় দেয় না। নতুন পুর বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পরই এলাকার মানুষ এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। গণস্বার্থ ও সংস্কৃতির অবক্ষয়ের যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে পুরসভা কালবিলম্ব না করে বিতর্কিত মূর্তিগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রশাসনিক কড়া অবস্থান ও রাজনৈতিক মহলে চর্চা

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরসভার এই দ্রুত সিদ্ধান্ত আদতে শহরের জনবিন্যাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করার একটি স্পষ্ট বার্তা। প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বা উদ্যোগ হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের আপত্তির কারণে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রশাসনের নিরপেক্ষ মানসিকতারই প্রমাণ দেয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে সংস্কৃতির নামে যে ধরণের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপচয় করা হয়েছিল, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। পুরসভার এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনে কলকাতার অন্যান্য বিতর্কিত বা বেআইনি সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পগুলোর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *