খাঁচাবন্দি আড়ংঘাটার ‘ত্রাস’! জমি দখল ও ফেরিঘাট মাফিয়াগিরির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা রমজান

খাঁচাবন্দি আড়ংঘাটার ‘ত্রাস’! জমি দখল ও ফেরিঘাট মাফিয়াগিরির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা রমজান

সংবাদদাতা, রানাঘাট: সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে নদীর ফেরিঘাট জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ— সব জায়গাতেই ছিল যার অবাধ মাফিয়ারাজ, অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল আড়ংঘাটার সেই তথাকথিত ‘বাঘ’। গত শুক্রবার রাতে ধানতলা থানার অন্তর্গত আড়ংঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজরাপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা রমজান আলি মণ্ডলকে। একই সঙ্গে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে রমজানের ডান হাত তথা ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ সাঁতরা। ধৃত দু’জনকেই রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

আতঙ্কের অপর নাম রমজান, দীর্ঘ অত্যাচারের খতিয়ান

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত বেশ কিছু বছর ধরে আড়ংঘাটা ও হাজরাপুর চত্বরে রমজান আলি মণ্ডলের নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকতেন। নিজেকে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে গোটা এলাকায় সমান্তরাল প্রশাসন চালাতো সে। অভিযোগ, চূর্ণী নদীর ফেরি চলাচল জোরপূর্বক নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ছাড়াও এলাকায় কেউ বাড়ি বা কোনো নির্মাণ কাজ করতে গেলে রমজানের সিন্ডিকেট থেকেই চড়া দামে বালি-সিমেন্ট কিনতে বাধ্য করা হতো। এর প্রতিবাদ করলে জুটত নির্মম মারধর ও হুমকি। সাধারণ মানুষকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হতো বলে অভিযোগ।

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় রুখে দাঁড়াল গ্রাম

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবশেষে রুখে দাঁড়ান হাজরাপুর গ্রামেরই এক সাহসী বাসিন্দা রাজকুমার চৌধুরী। অত্যাচারের মাত্রা সহ্যসীমা ছাড়িয়ে দেওয়াল পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তিনি সরাসরি আড়ংঘাটা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে রমজান ও প্রদীপের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই শুক্রবার রাতে আরংঘাটা ফাঁড়ি ও ধানতলা থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত রমজান আলি মণ্ডলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এরপর রাতেই স্থানীয় বাজার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তার সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও ধরে ফেলে পুলিশ।

রাজনৈতিক তরজা ও পঞ্চায়েত দুর্নীতির যোগ

এই ঘটনা সামনে আসতেই রানাঘাট উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অসীম বিশ্বাস তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “অভিযুক্ত রমজান এলাকার মানুষকে ভয় দেখিয়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে তোলাবাজি করা হতো। পঞ্চায়েতের যে সমস্ত অনৈতিক ও ভুয়ো টেন্ডার হতো, তার সঙ্গেও সরাসরি যোগ ছিল এই রমজানের। এছাড়াও বিবিধ অসামাজিক কাজকর্মের মূল পান্ডা ছিল সে।” এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য নদীয়া জেলার তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *