হোয়াইট হাউসের বাইরে চলল গুলি, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বৈঠকের মাঝেই বন্দুকবাজ নিহত

আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হোয়াইট হাউসের বাইরে এক ভয়াবহ গুলির লড়াইয়ে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। শনিবার সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউতে এক অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে এই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মুহূর্তের মধ্যে অন্তত ১২ রাউন্ড গুলির শব্দে চারপাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ করেন প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। তাদের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই ওই বন্দুকবাজের মৃত্যু হয়েছে।
এই আকস্মিক গুলির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে এক সাধারণ পথচারী গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন এখনও পর্যন্ত নিহত বন্দুকবাজ কিংবা চিকিৎসাধীন আহত পথচারীর পরিচয় প্রকাশ করেনি। ঘটনার সময়ে হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে উপস্থিত সাংবাদিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রেস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকের মাঝেই চরম উত্তেজনা
যে সময়ে হোয়াইট হাউসের বাইরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছিল, ঠিক সেই সময়ে ভেতরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বাইরে গুলির শব্দ শোনা গেলেও সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর নজরদারিতে প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিলেন এবং তার সুরক্ষায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
নিরাপত্তা সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের সময়ে হোয়াইট হাউসের মতো সুরক্ষিত জায়গার ঠিক বাইরে এই ধরনের হামলার ঘটনা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই হোয়াইট হাউসের কাছে আরেকটি হামলায় এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরুত্থান ঘটা এই সহিংসতা দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুর নিরাপত্তা দুর্বলতাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
ইতিমধ্যেই সিক্রেট সার্ভিসের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, তাদের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করছে এবং সিক্রেট সার্ভিসকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এই হামলার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে হোয়াইট হাউস ও তার আশেপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করা হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রভাব ফেলবে।