বরফের চেয়েও দ্রুত গলছে তৃণমূল, এবার বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হওয়ার লড়াইয়ে বামেরা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সিপিআইএম। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বামপন্থীরা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করছে, রাজ্যে এখন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সময় এসেছে।
সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম শাসক দলকে তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বামেদের বর্তমান মূল লক্ষ্য কেবল তাত্ত্বিক বিরোধিতা নয়, বরং বাস্তব রাজনৈতিক ময়দানে নেমে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। আরএসএস ও বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াইয়ে বামপন্থীরাই বরাবর অগ্রভাগে থেকেছে এবং রাজ্যের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় তারা আবারও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
মেরুকরণের রাজনীতি ও বামেদের কৌশল
বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূল রাজ্যে এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যার সুবাদে বিভিন্ন প্রান্তে আরএসএসের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি যৌথভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করে বাংলায় একটি কৃত্রিম দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ‘বাইনারি’ তৈরি করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল অন্য বিরোধী শক্তিগুলোকে কোণঠাসা করা। তবে শাসক দলের প্রতি জনসমর্থনের ধারাবাহিক অবক্ষয়ের কারণে সাধারণ মানুষ এখন নতুন বিকল্প খুঁজছে। হকার উচ্ছেদ, নিম্নবিত্তের জীবিকায় আঘাত, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মতো ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছে বামপন্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।
ভোটের পরিসংখ্যান ও প্রাসঙ্গিকতার লড়াই
রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ডোমকল আসনে জয় পেয়েছে সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। যদিও সামগ্রিক ভোটের হার ৪.৪৫ শতাংশের কাছাকাছি সীমাবদ্ধ, তবুও এই জয়কে বড় ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে আলিমুদ্দিন। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুতির সময় বামফ্রন্টের ভোটের হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ, যা ২০২১ সালের নির্বাচনে কমে ৪.৭৩ শতাংশে নেমে আসে। ভোটের এই বড় বিপর্যয় সত্ত্বেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামার বার্তা দিচ্ছে বাম নেতৃত্ব।