মে মাসের দাবদাহে জ্বলছে দেশ, আচমকা বরফে ঢাকল হিমাচল!

মে মাসের দাবদাহে জ্বলছে দেশ, আচমকা বরফে ঢাকল হিমাচল!

সমতলের তীব্র ও অসহ্য গরমে যখন পুড়ছে গোটা দেশ, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব বৈপরীত্যের সাক্ষী থাকল হিমাচল প্রদেশ। মে মাসের শেষ লগ্নে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সূর্যদেব যখন অগ্নিবর্ষণ করছেন, তখন হিমাচলের পাহাড়ি ও উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে মরশুমের টাটকা তুষারপাত। এই মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে এবং গরমের ছুটি কাটাতে পাহাড়ে এখন আট থেকে আশির রেকর্ড ভিড়। রোহতাং ও শিঙ্কুলা পাসের বরফে ঢাকা মনমুগ্ধকর ভিডিও সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পর্যটকদের উন্মাদনা একলাফে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজ ও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা

চলতি মরশুমে হিমাচলের মৈনাক ও মধ্য পার্বত্য অঞ্চলেও গরমের তেজ কম ছিল না। এমনকি রাজ্যের উনা জেলার তাপমাত্রা একধাক্কায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল। এই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি থেকে সাময়িক রেহাই পেতে লাখ লাখ ভ্রমণপিপাসু মানুষ তড়িঘড়ি মানালি এবং তার আশেপাশের চিরতুষারে ঢাকা পাহাড়ি এলাকাগুলির দিকে রওনা দেন। সম্প্রতি সাধারণ পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত রোহতাং পাস খুলে দেওয়া হয়েছে এবং লাদাখ সীমান্তের সংযোগকারী শিঙ্কুলা পাসেও প্রচুর বরফ মজুত রয়েছে। ফলে ভোররাত থেকেই এই দুই বরফ-রাজ্যের উদ্দেশ্যে পর্যটকদের গাড়ি ছুটতে শুরু করে। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও মেঘ-বৃষ্টির যুগলবন্দির জেরে হিমাচলের তাপমাত্রা একধাক্কায় অনেকটাই নিচে নেমে গিয়েছে। পাহাড়ি শহর মানালির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এই মুহূর্তে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মানালি ছাড়াও কুল্লু, লাহাউল-স্পীতি ও কিন্নরে এখন মনোরম কনকনে ঠান্ডার পরিবেশ।

মাইলের পর মাইল স্তব্ধ ট্রাফিক ও প্রশাসনের কসরত

হঠাৎ করে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের ঢল নামার জেরে হিমাচলের পাহাড়ি রাস্তায় তৈরি হয়েছে এক চরম বিপর্যয়। রোহতাং ও শিঙ্কুলা পাসের দুর্গম সর্পিল রাস্তায় শুধুই সারি সারি ট্যুরিস্ট ট্যাক্সি, কার ও বাইকের অন্তহীন লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। ট্রাফিকের এই অবর্ণনীয় চাপের কারণে মাইলের পর মাইল জুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝরাস্তাতেই আটকে থাকতে হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে পাহাড়ের খামখেয়ালিপনা। আচমকা আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় কিছু অতিউৎসাহী পর্যটক তীব্র বরফ ঝড়ের (Blizzard) মুখে পড়ে ফেঁসে যান। ভারী তুষারপাতের জেরে বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা চরম বিপজ্জনক ও পিছল হয়ে পড়ে এবং চাকা স্কিড করার ভয়ে যানবাহন অত্যন্ত ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পাহাড়ি ট্রাফিক ও বিপর্যয় সামাল দিতে এবং আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে কার্যত কালঘাম ফেলতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী মহলে খুশির হাওয়া ও প্রশাসনিক সতর্কতা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যানজটের ভোগান্তি থাকলেও, এই অভাবনীয় ভিড়ের কারণে খুশির হাওয়া হিমাচলের স্থানীয় পাহাড়ি ব্যবসায়ী মহলে। হোটেল ব্যবসায়ী, হোমস্টে মালিক, ট্যাক্সি চালক থেকে শুরু করে প্যারাগ্লাইডিং ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক লাভের মুখ দেখছেন। এই মুহূর্তে হিমাচলের হোটেল বুকিং ও লোকাল যাতায়াতের গাড়ির চাহিদা আকাশছোঁয়া। তবে জেলা প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ধরে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে দফায় দফায় বৃষ্টি এবং হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত জারি থাকতে পারে। পাহাড়ের আবহাওয়া অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পর্যটকদের পাহাড়ি রাস্তায় সাবধানে গাড়ি চালানোর এবং রওনা দেওয়ার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার লাইভ আপডেট খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *