বিজেপিতে যোগ দিয়েই বড় সাফল্য, রাজ্যসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে রাঘব চড্ডা

বিজেপিতে যোগদানের পরেই বড় দায়িত্ব পেলেন রাঘব চাড্ডা, সামলাবেন রাজ্যসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটি
আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডা সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় দায়িত্ব পেলেন। তাকে রাজ্যসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পিটিশন কমিটি’র (Petitions Committee) চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তার এই দ্রুত উত্থান ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পিটিশন কমিটির দায়িত্ব ও গুরুত্ব
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন সম্প্রতি এই কমিটি পুনর্গঠন করেছেন। আগামী ২০ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ১০ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন রাঘব চাড্ডা। সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে এই কমিটি অত্যন্ত প্রভাবশালী। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ এবং প্রশাসনিক স্তরে অমীমাংসিত বিষয়গুলো এই কমিটির মাধ্যমে সংসদের নজরে আনা হয়। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ নিরসনে এই কমিটি সেতুবন্ধনের কাজ করে। এখন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করবেন চাড্ডা।
নতুন গঠিত এই কমিটিতে রাঘব চাড্ডার সঙ্গে রয়েছেন হর্ষ মহাজন, গুলাম আলি, শম্ভু শরণ প্যাটেল, ময়াঙ্ক কুমার নায়েক, মস্তান রাও যাদব বিধা, জে.বি. মেথর হিশাম, সুভাশিস কুন্তিয়া, রাওয়াঙ্গওয়ারা নারজারি এবং সন্তোষ কুমারের মতো সদস্যরা।
বিজেপিতে যোগদান ও নতুন সমীকরণ
গত ২৪ এপ্রিল, ২০২৬-এ রাঘব চাড্ডা তাঁর দীর্ঘদিনের দল আম আদমি পার্টি থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গেই হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, বিক্রমজিৎ সাহনি এবং রাজেন্দ্র গুপ্তার মতো দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। দল ছাড়ার সময় রাঘব চাড্ডা অভিযোগ করেছিলেন যে, আপ তাঁদের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সেখানে দেশসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সুবিধাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজেকে ‘ভুল দলে থাকা সঠিক ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাঘব চাড্ডার যুব নেতৃত্ব, সংসদের ভেতরে তাঁর সরব উপস্থিতি এবং মিডিয়া হ্যান্ডলিং করার দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চায় বিজেপি। তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে যে, চাড্ডাকে ভবিষ্যতে দলের জাতীয় স্তরের আরও বড় কোনো দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই নিয়োগের ফলে একদিকে যেমন বিজেপিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, তেমনি আপের মতো বিরোধী দলের প্রাক্তন নেতার এই সাফল্য আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।