8 বছরের প্রেম, কোর্ট ম্যারেজ, তারপরই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ নববধূ! চাঞ্চল্যকর ঘটনা

৮ বছরের প্রেম, গোপন কোর্ট ম্যারেজ, তারপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীকে সরালো পরিবার: রহস্যময় অন্তর্ধান
দীর্ঘ ৮ বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক অবশেষে পরিণতি পেতে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। মহারাষ্ট্রের ডোম্বিভলিতে প্রেমিকের সঙ্গে কোর্ট ম্যারেজ করার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েকে নিয়ে গিয়ে গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নিখোঁজ তরুণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বামী।
প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ
ডোম্বিভলির বাসিন্দা ওঙ্কার ও শিবানির মধ্যে দীর্ঘ ৮ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সম্মতি না থাকায় গত ১৫ মে তাঁরা গোপনে আইনি বিয়ে সম্পন্ন করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে শিবানির পরিবার প্রথমে তা মেনে না নিলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করার অভিনয় করে। শিবানির কাকা ওঙ্কারকে জানান যে, তাঁরা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষী রেখে ঘটা করে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করবেন। পরিবারের এই কথায় বিশ্বাস করে ওঙ্কার শিবানিকে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠান।
বিয়ের আগের দিনই নিখোঁজ
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৪ মে বিয়ের দিন ধার্য করা হয় এবং ফংশন হলও বুক করা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আগের দিন হঠাতই শিবানির পরিবার তাকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ওঙ্কার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি।
পুলিশের দ্বারস্থ স্বামী
নিজের স্ত্রীকে খুঁজে পেতে ওঙ্কার ডোম্বিভলির মানপাড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগে ওঙ্কার জানিয়েছেন, ধর্মীয় ভিন্নতার কারণেই শিবানির পরিবার তাঁদের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার ওপর ক্ষিপ্ত। তারা ফোন করে আমাকে হুমকিও দিয়েছিল। আমার স্ত্রীর প্রাণের নিরাপত্তা নিয়ে আমি অত্যন্ত শঙ্কিত।”
বর্তমানে পুলিশ একটি নিখোঁজ মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তরুণীকে উদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ৮ বছরের প্রেম এবং নতুন জীবনের শুরুর মুহূর্তেই এমন রহস্যময় অন্তর্ধান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।