বন্দে ভারতের সুরক্ষায় এবার ভয়ংকর ‘কোরাস’ কমান্ডো, কাঁপবে উপত্যকার জঙ্গি ঘাঁটি!

বন্দে ভারতের সুরক্ষায় এবার ভয়ংকর ‘কোরাস’ কমান্ডো, কাঁপবে উপত্যকার জঙ্গি ঘাঁটি!

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে নিরাপত্তার এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো উপত্যকায়। জম্মু-কাটরা-শ্রীনগর-বারামুল্লা রুটে সদ্য সম্প্রসারিত ও যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সুরক্ষায় এবার মোতায়েন করা হয়েছে ভারতীয় রেলের এলিট ইউনিট ‘কোরাস’ (CORAS – Commandos for Railway Security)। কাশ্মীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে যাত্রীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতেই রেল মন্ত্রক এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৯ সালে রেলের সম্পত্তি ও যাত্রী সুরক্ষায় গঠিত এই বিশেষ কমান্ডো বাহিনীকে সম্প্রতি জম্মু তাওয়াই স্টেশনে অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ প্রহরারত অবস্থায় দেখা গেছে।

দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা ও কমান্ডোদের বিশেষত্ব

রেল সূত্রের খবর, বন্দে ভারতের এই রুটে প্রতি ২ কিলোমিটার অন্তর ‘কোরাস’ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ট্রেনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে—উভয় জায়গাতেই অবস্থান করবে এই এলিট ফোর্স। চরম নিরাপত্তার স্বার্থে খোদ ট্রেনের লোকো পাইলটদেরও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও হেলমেট পরানো হচ্ছে। বর্তমানে এই রুটে সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কোরাস বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ৭০০, যার মধ্যে বারামুল্লা সদর দফতরে ১১৪ এবং ১১৭ জনের দুটি দল সর্বদা আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য ‘স্ট্যান্ডবাই’ থাকবে। এছাড়া পুরো রুট জুড়ে নজরদারির জন্য থাকছে প্রায় ৩ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ড্রোন প্রযুক্তি।

এনএসজি (NSG), সিআরপিএফ (CRPF) কিংবা সিআইএসএফ (CISF)-এর সমকক্ষ এই বাহিনী মানেসরের এনএসজি ক্যাম্প এবং হায়দরাবাদে ‘গ্রেহাউন্ড’ বাহিনীর সঙ্গে কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ল্যান্ডমাইন খুঁজে বের করা, আইইডি (IED) নিষ্ক্রিয় করা, পণবন্দি উদ্ধার এবং শত্রুর ঘাঁটিতে ঢুকে জঙ্গি দমনে এই বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ।

মোতায়েনের কারণ ও দূরগামী প্রভাব

সাবেক রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের আমলে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় প্রথম এই বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উত্তর-পূর্ব ভারতের অশান্ত অঞ্চলেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে কোরাস। সাম্প্রতিক সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের অধীনে শ্রীনগর-জম্মু রুটে বন্দে ভারতের ট্রিপ সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ২০ করায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীসংখ্যা এবং ট্রেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দুই-ই বেড়েছে। পহেলগাওঁ হামলার মতো অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং উপত্যকায় নাশকতা রুখতেই এই এলিট ফোর্সকে নামানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে জম্মু-কাশ্মীরে রেল ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের মধ্যে যেমন আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে, তেমনই যেকোনো ধরনের জঙ্গি গতিবিধি বা অন্তর্ঘাতমূলক চেষ্টা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা সম্ভব হবে। কঠোর ও আধুনিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জেরে কাশ্মীরের পর্যটন শিল্প এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *