ভারতে প্রথমবার ১৮২ কোটির জিহাদি ড্রাগ উদ্ধার, মোদী সরকারের অপারেশন ‘রেজ-পিল’ সফল

দেশকে মাদক-মুক্ত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে বড়সড় সাফল্য পেল নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। ‘অপারেশন রেজ-পিল’ চালিয়ে ভারতের মাটি থেকে এই প্রথমবার উদ্ধার হলো আন্তর্জাতিক জঙ্গি মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভয়ঙ্কর ‘জিহাদি ড্রাগ’ বা ক্যাপ্টাগন পিলস। দিল্লি এবং গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২৭ কিলোগ্রাম ওজনের এই মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ১৮২ কোটি টাকা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক সিরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
ভয়ঙ্কর ক্যাপ্টাগন ও জঙ্গিযোগ
ক্যাপ্টাগন নামের এই রাসায়নিকটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রে ‘ড্রাগ অফ জিহাদ’ নামে পরিচিত। ইতিহাস সাক্ষী, ২০১৫ সালের প্যারিস হামলা, ২০২৪ সালের মস্কো হামলা এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামাসের নারকীয় হত্যালীলার নেপথ্যে ছিল এই মাদকের প্রভাব। চিকিৎসকদের মতে, এই ড্রাগ সেবনের পর মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি, ভয়, খিদে, ঘুম এবং ব্যথার বোধ পুরোপুরি লোপ পায়। ফলে রক্তমাংসের মানুষ সাময়িকভাবে অত্যন্ত হিংস্র ও নৃশংস ‘কিলিং মেশিনে’ পরিণত হয়। পশ্চিম এশিয়ার সিরিয়া, আফগানিস্তান ও আফ্রিকা অঞ্চলে জঙ্গিদের ক্লান্তিহীনভাবে লড়াই চালানো এবং নির্মম অপরাধে উদ্বুদ্ধ করতে এই ড্রাগের বহুল ব্যবহার রয়েছে।
পাচারের রুট ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তে জানা গেছে, বিপুল পরিমাণের এই ভয়ঙ্কর মাদক ভারতে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং ভারতকে ‘ট্রান্সজিট রুট’ বা মধ্যবর্তী পথ হিসেবে ব্যবহার করে সিরিয়া থেকে জেড্ডাহ-তে পাচার করা হচ্ছিল। এই চক্রের পেছনে একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে ধারণা করছে NCB। ভারতের সীমান্ত ও বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি অর্থায়নের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়াকে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সফল অভিযানের পর NCB-কে অভিনন্দন জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নীতি অত্যন্ত কঠোর এবং ভারতকে কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই উদ্ধার অভিযানের ফলে বৈশ্বিক মাদক চক্রের ভারত-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।