“ইনি আমার মা নন”: ৪ বছর পর ফিরে পাওয়া সন্তান চিনতেই পারল না গর্ভধারিণীকে!

“ইনি আমার মা নন”: ৪ বছর পর ফিরে পাওয়া সন্তান চিনতেই পারল না গর্ভধারিণীকে!

চার বছর পর উদ্ধার চার বছরের শিশু, নিজ মা-বাবাকেই চিনতে পারল না সে! অপহরণকারীর স্নেহেই গড়ে উঠেছে নতুন পরিচয়। বিহারের ঔরঙ্গাবাদে ঘটা এই ঘটনাটি যেন এক দীর্ঘস্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক ট্র্যাজেডি।

ঘটনার সূত্রপাত

২০২২ সালে বিহারের ঔরঙ্গাবাদের ওবরা দেবী মন্দিরে ভিড়ের সুযোগে চার বছর বয়সী শিশু শিবা পাণ্ডেকে অপহরণ করা হয়। দীর্ঘ চার বছর ধরে হন্যে হয়ে খুঁজেও ছেলেটির কোনো হদিস পাননি তার অসহায় মা-বাবা। সম্প্রতি গয়া পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, খিজরসরাই এলাকার এক নারীর কাছে সন্দেহজনকভাবে একটি শিশু রয়েছে। পুলিশি অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং ডিএনএ ও তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সে শিবা পাণ্ডেই।

মায়ের বদলে অপহরণকারীই এখন ‘মা’

উদ্ধারের পর পুলিশ শিশুটিকে তার প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চার বছর ধরে অপহরণকারী ওই নারীর কাছে বেড়ে ওঠা শিবা তার জন্মদাত্রী মা-বাবাকে চিনতেই অস্বীকার করে। সে ওই অপহরণকারী নারীকেই তার নিজের মা বলে মনে করে এবং তার কাছেই ফিরে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলেরই চোখে জল চলে আসে। শিশুটিকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে এখন পুলিশি তত্ত্বাবধানে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অপরাধের নেপথ্যের করুণ কাহিনী

তদন্তে জানা গেছে, অপহরণকারী নারীর বিয়ে হলেও নিঃসন্তান হওয়ার কারণে তার স্বামী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এই মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত ওই নারী সন্তান লাভের আশায় বিভিন্ন মন্দির ও ভিড় এলাকায় ঘোরাফেরা শুরু করেন। ২০২২ সালে শিবা পাণ্ডেকে একা পেয়ে তিনি তাকে অপহরণ করে নিজের সন্তানের মতো করে বড় করতে থাকেন। যাতে কারো সন্দেহ না হয়, সে বিষয়েও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক।

পুলিশি তৎপরতা

একটি শিশু কীভাবে চার বছর ধরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় থাকার পরেও নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে বিস্মিত পুলিশ প্রশাসন। এই অপহরণের ঘটনায় ওই নারী একাই জড়িত ছিলেন, না কি পেছনে অন্য কারো হাত আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুটি তার পরিবারে ফিরেছে, তবে তার হারানো শৈশব ও মানসিক জগতকে নতুন করে স্বাভাবিক করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনাটি মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ও অপরাধের সীমানার এক নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *