রেকর্ড পরীক্ষার্থী নিয়ে শুরু হলো রাজ্য জয়েন্ট, স্বচ্ছতা বাড়াতে ওএমআর শিটের কার্বন কপি পাবেন পড়ুয়ারা

রেকর্ড পরীক্ষার্থী নিয়ে শুরু হলো রাজ্য জয়েন্ট, স্বচ্ছতা বাড়াতে ওএমআর শিটের কার্বন কপি পাবেন পড়ুয়ারা

আজ রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (ডব্লিউবিজিইই ২০২৬)। প্রকৌশল, প্রযুক্তি, ফার্মেসি এবং স্থাপত্যের মতো বিভিন্ন পেশাদার কোর্সে ভর্তির এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ বছর ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি পড়ুয়া বসছেন। গোটা রাজ্যের ২৬৪টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। দুটি পর্বে আয়োজিত এই পরীক্ষার প্রথমার্ধে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত গণিত এবং দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

স্বচ্ছতা বাড়াতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

এবারের রাজ্য জয়েন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ। এই প্রথমবার পরীক্ষার্থীদের ওএমআর (OMR) শিটের কার্বন কপি দেওয়া হচ্ছে। ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো রকম কারচুপি এড়াতে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা মূল ওএমআর শিটটি মূল্যায়নের জন্য জমা দিয়ে সেটির কার্বন কপি নিজের সাথে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন। এর ফলে পরবর্তীতে উত্তরপত্র মেলানোর ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের কাছে একটি নিশ্চিত প্রমাণ থাকবে, যা পরীক্ষার সামগ্রিক স্বচ্ছতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

কড়া নজরদারি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘড়ি, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া, পরীক্ষা পরিচালনার কাজ তদারকি করতে প্রতি দুটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে বোর্ড।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে বাস, ট্রেন ও মেট্রোর মতো গণপরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। প্রশাসন ও বোর্ডের এই সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে রাজ্য জয়েন্ট পরীক্ষা আরও নিয়মতান্ত্রিক এবং কারচুপিমুক্ত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *