কংগ্রেসে ফেরার আহ্বান শুভঙ্করের! মমতার ঘরে ফেরা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব যেভাবে ‘ঘর ওয়াপসি’-র সুর চড়িয়েছেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে শুধুমাত্র সাধারণ আমন্ত্রণ হিসেবে দেখছেন না।
এই ডাকের পেছনে প্রধানত তিনটি দিক লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
১. তৃণমূলের ভাঙনের ইঙ্গিত: লোকসভা বা সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা বা জনসমর্থনে ভাটার খবর প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেস এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে। দলের নেতাদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যারা কোণঠাসা বা কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের ফিরিয়ে এনে ফের একবার কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল কংগ্রেসের গর্ভ থেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুভঙ্কর সরকারের এই ‘ঘর ওয়াপসি’-র ডাকটি প্রতীকীভাবে তৃণমূলের অস্তিত্বের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার এক কৌশলী পদক্ষেপ। ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ফিরবেন?’—এই তির্যক প্রশ্নটি মূলত সেই পুরোনো শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা।
৩. জোটের রাজনীতির ভবিষ্যৎ: কংগ্রেসের এই আহবানের ফলে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সমীকরণে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কংগ্রেসের সাথে জোট বা দূরত্বের বিষয়টি সামনে এনেছেন। এখন কংগ্রেসের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূলের সাথে তাদের তিক্ততা বাড়াবে কি না, নাকি এটি নিছকই তৃণমূলের কর্মীদের মনোবল ভাঙার একটি চাল, তা সময়ের অপেক্ষা।
সব মিলিয়ে, প্রদেশ কংগ্রেসের এই ‘ঘর ওয়াপসি’-র বার্তাটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যদি বাস্তবে তৃণমূলের কোনো বড় অংশ সত্যিই কংগ্রেসমুখী হয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী যিনি কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল গড়ে দীর্ঘ সময় বাংলার মসনদ সামলেছেন, তিনি এই আমন্ত্রণে আদৌ গুরুত্ব দেবেন কি না বা এটি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।