তৃণমূলের একাংশের জন্য কি তবে বন্ধই থাকছে বিজেপির দরজা, ‘ভালো-খারাপের’ অঙ্কে নয়া বার্তা শমীকের

তৃণমূলের একাংশের জন্য কি তবে বন্ধই থাকছে বিজেপির দরজা, ‘ভালো-খারাপের’ অঙ্কে নয়া বার্তা শমীকের

বাংলায় ক্ষমতা দখলের পর পার হয়ে গিয়েছে ১৯ দিন। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে ভোটের পর দলবদলের যে চেনা ছবি এ রাজ্যে দেখা যায়, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। গেরুয়া শিবিরে অন্য দল থেকে যোগদানের কোনো হিড়িক চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ঠিক কোন স্তরের নেতাকর্মীদের জন্য বিজেপির দরজা খুলবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনই অন্য দলের কাউকে সংগঠনে নেওয়া হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে দরজা খুললেও সবার জন্য সেখানে প্রবেশাধিকার থাকবে না।

তৃণমূলের ‘দাগিদের’ নো-এন্ট্রি

শাসকদল তৃণমূলের ঠিক কোন অংশকে বিজেপি দূরে রাখতে চায়, তা নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা অতীতে সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কিংবা কয়লা, বালি ও চাকরি বিক্রির মতো দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের জন্য বিজেপির দরজা একেবারেই বন্ধ থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ও পরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কড়া বার্তা বিজেপি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পরও সেই অবস্থান থেকে পিছু হটতে রাজি নয় দল। ফলে দুর্নীতির দাগ গায়ে থাকা কোনো নেতাকে দলে টেনে তারা জনমানসে ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে না।

পরিস্থিতির শিকার কর্মীদের জন্য কি আশার আলো

তাহলে কি তৃণমূলের কারও জন্যই বিজেপির দরজা খুলবে না? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তৃণমূলের ভেতরে এমন বহু মানুষ আছেন যারা পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় অতীতে মুখ খুলতে পারেননি, কিংবা মুখ খুলে দলের ভেতরের বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। এই ধরনের নেতাকর্মীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। তবে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তৃণমূলের প্যারামিটার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলী অবস্থান নিয়ে জানান, ভালো-খারাপের বিচার করার মালিক তারা নন, তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও আগামী দিনের রাজনীতি

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপির এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। দলবদলের হিড়িক রুখে দিয়ে তারা প্রথমত দলের পুরনো ও আদি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, এখনই ঢালাও যোগদানের রাস্তা বন্ধ রেখে তারা তৃণমূলের অন্দরে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে, যাতে সত্যিই যারা দল ছাড়তে চান, তারা নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়ে সতর্ক হন। বিজেপির এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে বাংলার দলবদল এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *