আইন মেনে ইদ উদযাপনের ডাক, মুসলিম সমাজকে বড় বার্তা ধর্মীয় সংগঠনের

আইন মেনে ইদ উদযাপনের ডাক, মুসলিম সমাজকে বড় বার্তা ধর্মীয় সংগঠনের

সামনেই পবিত্র কুরবানি ইদ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুসলিম সমাজের উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় বার্তা দিল ধর্মীয় সংগঠন ‘তানজিম উলেমায়ে আহলে’। হুগলির চুঁচুড়ায় আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছেন, কুরবানি থেকে শুরু করে নামাজ বা লাউডস্পিকার ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই সরকারি নির্দেশিকা ও দেশের আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

সরকারি বিধি মেনে চলার পরামর্শ

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশু জবাই সংক্রান্ত যে নতুন আইন কার্যকর করেছে, যেখানে ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেই নির্দেশিকা পুরোপুরি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে এই সংগঠন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা কামরুদ্দিন কমর আলি ও বাসুবাটির মাজার শরীফের পীরজাদা সৈয়দ সামিরুল ইসলাম জানান, বকরি ইদে শুধু গরু নয়, অন্য পশু কুরবানি দেওয়ারও ধর্মীয় প্রথা রয়েছে। ফলে আইন মেনে অন্য পশু কুরবানি দিয়েও উৎসব উদযাপন করা সম্ভব।

জনসাধারণের সুবিধার দিকে নজর

শুধু কুরবানির পশুই নয়, নামাজ ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার কথা বলেছে সংগঠনটি। মসজিদে লাউডস্পিকার বাজানো এবং রাস্তায় নামাজ পড়ার বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের অসুবিধা এড়াতে ধর্মীয় স্থান বা যেকোনো অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে স্পিকার বাজানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে, রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটিয়ে নামাজ না পড়ে, নিকটবর্তী মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে সংগঠনটি।

রাজনৈতিক উসকানি এড়ানোর আহ্বান

উৎসবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে না নেওয়ার জন্য হুগলি তথা সমগ্র রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ না হয়ে স্থানীয় ইমাম বা মৌলবিদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। নেতাদের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংগঠনের মুখপাত্র আদনান রাজা স্পষ্ট জানান, এই সময়ে সরকারের আইন ও নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে শ্রেয়। এই বার্তার ফলে ইদের আবহে সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকবে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *