তীব্র গরমে কলকাতায় চড়ছে পারদ, মধ্যবিত্তের পকেটের টান মেটাবে ৫টি সহজ কৌশল!

কলকাতায় গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হতেই চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। আর এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে এসি, এয়ার কুলার বা ফ্যান একটানা চালানোর ফলে মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত পড়ার জোগাড় হয়েছে। আইআইটি খড়গপুরের ‘স্কুল অফ এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেয়ারপার্সন চিরদীপ বাকলি জানান, ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়া গরমকে বাইরে বের করতেই মূলত সিংহভাগ বিদ্যুৎ খরচ হয়। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস এবং ঘরোয়া রক্ষণাবেক্ষণে সামান্য বদল আনলে পকেটের ওপর চাপ না বাড়িয়েই তীব্র গরমে বাড়িকে ঠান্ডা রাখা সম্ভব।
রোদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ও এসির সঠিক ব্যবহার
ঘর ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাইরে থেকে তাপ ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া। দুপুরের চড়া রোদের সময় জানলার পর্দা টেনে রাখা, রিফ্লেক্টিভ উইন্ডো ফিল্ম ব্যবহার করা কিংবা জানলার পাশে গাছ রাখলে ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে, যার ফলে এসির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। এছাড়া ঘরের ভেতরে থাকা ওভেন, ইস্ত্রি বা পুরোনো ফিলামেন্টের বাল্ব থেকেও প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। তাই দিনের বেলায় ভারী রান্না এড়িয়ে চলা এবং সাধারণ বাল্বের বদলে এলইডি (LED) আলো ব্যবহার করা উচিত। অনেকেই এসি চললে ফ্যান বন্ধ রাখেন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এসির সাথে ফ্যান চালালে ঘরের সর্বত্র ঠান্ডা হাওয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা গরমের দিনে এসির তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ২৬°C-এর মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন। তাপমাত্রা খুব বেশি কমিয়ে রাখলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় না, বরং কম্প্রেসরের ওপর চাপ বেড়ে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ করে দেয়। পাশাপাশি, রাতে এসির ‘স্লিপ মোড’ বা ‘ইকো মোড’ ব্যবহার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন
বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতির ফিল্টারে ধুলো জমলে বা রেফ্রিজারেটরের পেছনে পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলের জায়গা না থাকলে যন্ত্রপাতিগুলি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং বেশি বিদ্যুৎ টানতে শুরু করে। তাই গরমের শুরুতেই এসির ফিল্টার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং করিয়ে নিলে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে। সারাদিন এসি চালিয়ে না রেখে ভোরের দিকে বা সন্ধ্যার পর যখন বাইরের আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা থাকে, তখন জানলা খুলে ঘরে প্রাকৃতিক হাওয়া চলাচলের সুযোগ করে দিলে পরবর্তী সময়ে এসি চালানোর প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ের জন্য পুরোনো এসি বদলে ইনভার্টার প্রযুক্তিযুক্ত ৫-স্টার রেটিংয়ের এসি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ, যা ঘরের প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ বিল একধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে আনে। এছাড়া যাঁদের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল রয়েছে, তাঁরা যদি ওয়াশিং মেশিন চালানো বা জল তোলার মতো ভারী কাজগুলি দুপুরের কড়া রোদের সময়ে করেন, তবে মেইন গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা ও খরচ দুই-ই নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে।