গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে শ্রীঘরে তৃণমূলের দাপুটে নেতা, চরম অস্বস্তিতে শাসক শিবির!

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে শ্রীঘরে তৃণমূলের দাপুটে নেতা,  চরম অস্বস্তিতে শাসক শিবির!

মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক দাপুটে নেতা গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে বড়ঞা থানার পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি অঞ্চলের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী আবু বাক্কার সেখকে গ্রেফতার করে। শনিবার ধৃত নেতাকে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে কান্দি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি ও অশান্তিতে যুক্ত পূর্বতন সরকারের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বর্তমান শুভেন্দু সরকারের অলআউট অ্যাকশনের মাঝেই এই ঘটনা ঘটল।

পুরোনো মামলা ও গ্রেফতারির নেপথ্য কারণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু বাক্কার সেখের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মারধর এবং অশান্তি ছড়ানোর একটি পুরোনো মামলা ছিল। ওই মামলায় তিনি অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড়ঞা থানার পুলিশ কুলি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে প্রথমে তাঁকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় আবু বাক্কার নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপট বজায় রাখতেন।

তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই গ্রেফতারির পর ধৃত তৃণমূল নেতার বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। আবু বাক্কার সেখ নিজেকে দলের চরম অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার বলে দাবি করেছেন। তিনি সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার এবং বড়ঞা ব্লক সভাপতি গোলাম মুর্শেদ যৌথভাবে চক্রান্ত করে তাঁকে এই মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

ইদের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল জেলায় এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারি এবং দলের অন্দরের চরম কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় তৃণমূল শিবির গভীর অস্বস্তিতে পড়েছে। একদিকে প্রশাসনের কড়া মনোভাব, অন্যদিকে দলীয় কোন্দল—উভয় সংকটে পড়ে এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক জমি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক দল। আপাতত পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *