সীতারমনের সঙ্গেবৈঠক, বেরিয়েই বাংলাকে নিয়ে বড় আশ্বাস শমীকের

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আদায় এবং রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে দিল্লির বুকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম বড়সড় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। তিন দিনের দিল্লি সফরে গিয়ে শমীকবাবুর এই বৈঠক বাংলার রাজনীতির অলিন্দে যেমন শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তেমনই রাজ্যের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
বকেয়া তহবিল পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কার
সূত্রের খবর, এই মেগা বৈঠকের মূল এজেন্ডাই ছিল বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে থমকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বকেয়া তহবিল পুনরুদ্ধার করা। পূর্বতন জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামবদল এবং দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগের কারণে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে ছিল, তা দ্রুত ছাড়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে শমীকবাবু জানান যে, নতুন প্রশাসন ইতিমধ্যেই পূর্বতন সরকারের প্রশাসনিক ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ব্যবস্থাগত অনিয়ম সংশোধনের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করে দিয়েছে। তহবিল ছাড়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শিল্পের পুনরুজ্জীবন ও পরিযায়ী সংকট দূরীকরণ
বৈঠকে বাংলার অর্থনৈতিক খোলনলচে বদলে ফেলতে এরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতশিল্পের (হ্যান্ডলুম) পুনরুজ্জীবন এবং নতুন টেক্সটাইল হাব বা বস্ত্রশিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বিগত পাঁচ দশকের বাম-তৃণমূল জমানাকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, গত ৫০ বছরে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার শিল্পব্যবস্থাকে ধ্বংস করে এরাজ্যকে পরিযায়ী শ্রমিকের আঁতুড়ঘরে পরিণত করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক বা তামিলনাড়ুর মতো উন্নত রাজ্যগুলির সমকক্ষ করে তুলতে বাংলাকে এই বৃত্ত থেকে বের করে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীও সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল এবং তিনি বিশ্বাস করেন এই আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
তবে ফলপ্রসূ এই আলোচনার পরও কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া অর্থ রিলিজ এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নির্মলা সীতারামনের মধ্যে আগামী আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরেই।
এদিকে কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকার সুফল যে মিলতে শুরু করেছে, তার বড় প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপে। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে ‘জল জীবন মিশন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, এটিই প্রকৃত ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাজের সূচনা। বিগত জমানার মতো কেন্দ্রীয় তহবিল নয়ছয় না হয়ে, বর্তমান যৌথ প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল এখন সরাসরি এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বাংলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।