ফলতায় হেভিওয়েট জাহাঙ্গীরের আকস্মিক প্রস্থান, বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারের বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু

দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাইভোল্টেজ ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় বলয়ে আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনায় প্রাথমিক ট্রেন্ডেই বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। অন্যদিকে, ভোটের ঠিক দুদিন আগে নাটকীয়ভাবে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানো তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান গণনায় অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছেন। ইভিএম খোলার পর থেকেই ফলতায় পদ্ম শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নাটকীয় মোড় ও জাহাঙ্গীরের ভোটচিত্র
রাজনৈতিক মহলে ফলতার এই লড়াই এবার অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল মূলত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি হঠাৎ করেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এটিকে দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং তাঁর সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত চয়েস’ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা বলে দাবি করা হয়েছিল। ভোটগ্রহণের দিন জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রোজিনা বিবির বুথে এসে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এড়িয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়, যা রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে ব্যালট পেপারে নাম থাকায় সরে দাঁড়ালেও জাহাঙ্গীর খানের ঝুলিতে কিছু ভোট জমা পড়েছে, কিন্তু তা বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
ভোট কারচুপি ও পুনর্নির্বাচনের কারণ
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার সাধারণ নির্বাচনের দিন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপি, অশান্তি এবং ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের আগের ভোট বাতিল করে সমস্ত বুথে নতুন করে পুনর্নির্বাচনের কড়া সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণ নির্বাচনের দিনের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করে নজিরবিহীন নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তার আশ্বাসে ফলতার ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যার ফলে দিনশেষে প্রায় ৮৬.১১ শতাংশের মতো রেকর্ড ভোট পড়ে।
ডবল ইঞ্জিন সরকারের আবহে সম্ভাব্য প্রভাব
সদ্য সমাপ্ত রাজ্যের মূল বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ২০৭টি আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ঐতিহাসিক সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে এই নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠনের আবহে ফলতার এই পুনর্নির্বাচন ছিল নবগঠিত শাসক দলের জন্য প্রথম বড় অ্যাসিড টেস্ট। ফলতায় বিজেপির এই বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এটাই ইঙ্গিত করছে যে, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া এই কেন্দ্রেও বজায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল প্রার্থীর বসে যাওয়া এবং বিজেপির এই জয়যাত্রা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বিরোধী শিবিরের ভিতকে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি, ভোট-পরবর্তী যেকোনো ধরনের হিংসা রুখতে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত বঙ্গে ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, যা আগামী দিনগুলোতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা নেবে।