তোলাবাজির অভিযোগে এবার পুলিশের জালে নিউটাউনের ক্ষমতাশালী তৃণমূল প্রধান রীতা গায়েন!

তোলাবাজির অভিযোগে এবার পুলিশের জালে নিউটাউনের ক্ষমতাশালী তৃণমূল প্রধান রীতা গায়েন!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক তৎপরতা দেখাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। ভোট পরবর্তী হিংসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানের জেরেই এবার গ্রেপ্তার হলেন রাজারহাট-নিউটাউনের জ্যাংড়া হাতিয়াড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান রীতা গায়েন। নিউটাউন থানার পুলিশ রীতিমতো অভিযান চালিয়ে রবিবার এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দুর্নীতি ও তোলাবাজির ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে গত কয়েকদিনে শহর ও শহরতলির একাধিক বড়-ছোট শাসকদলীয় নেতা পুলিশের র‍্যাডারে চলে এসেছেন। রীতা গায়েনের গ্রেপ্তারের ঠিক আগের রাতেই কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লেকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার এই পতন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, পুলিশ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

তৃণমূলের অন্দরে আতঙ্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

রীতা গায়েনের মতো মাঠপর্যায়ের ক্ষমতাশালী নেত্রীর গ্রেপ্তারির পর উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার সংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুধু তোলাবাজিই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য আর্থিক অনিয়ম ও অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মাত্র সাত দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তোলাবাজি ও হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে, অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় স্তরের নেতৃত্ব ও সিন্ডিকেট রাজের ওপর এর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গ্রেপ্তারকৃত নেত্রীকে দ্রুত আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *