পাক ফলোয়ার বিতর্ক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কড়া জবাব ককরোচ পার্টির প্রধানের

সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ঝড় তোলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ফলোয়ারদের জাতীয়তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। দলের অধিকাংশ ফলোয়ার পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু যে দাবি করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। পালটা দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, তাদের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের ৯৪ শতাংশ ফলোয়ারই ভারতীয়। নিরীহ ভারতীয় নাগরিকদের কেন পাকিস্তানি বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ইনস্টাগ্রামে মাত্র চার দিনে তাদের সদস্য সংখ্যা ৮ মিলিয়ন পার করে বিজেপিকেও ছাড়িয়ে যায়। এই উল্কাগতির উত্থানের মাঝেই সোশাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়, সিজেপির ৮০ শতাংশ ফলোয়ারই প্রতিবেশী দুই দেশের। এই তথ্যকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এক্স হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করে বলেন, যারা সোশাল মিডিয়ায় পাকিস্তান এবং জর্জ সোরেস গ্যাংয়ের কাছে ফলোয়ার ভিক্ষা করে, তাদের প্রতি করুণা হয়। এর নেপথ্যে কোনো বিদেশি শক্তি বা গুপ্তচর সংস্থার হাত রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন বিরোধীরা।
ডিজিটাল তরজা ও রাজনৈতিক প্রভাব
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আক্রমণের জবাবে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে এক্স পোস্টে পালটা প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকার সাধারণ আরশোলাদের এত ভয় পাচ্ছে। সরকারের এই মনোভাবকে একনায়কতন্ত্রী আচরণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের জন্য একটি উন্নততর ভবিষ্যত চাইছে এবং এই ধরনের মন্তব্যে তাদের চোখ খুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই দলটির জনপ্রিয়তা এখন মূলধারার রাজনীতির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশাল মিডিয়ার ফলোয়ার বিতর্ককে কেন্দ্র করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগের লড়াই যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনই সরকারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরশোলারা কখনও মরে না বলে সিজেপি প্রধান যেভাবে নতুন ভিত গড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা আগামী দিনে ডিজিটাল রাজনীতির ময়দানকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।