ঘূর্ণাবর্তের হাত ধরে অবশেষে স্বস্তির ইঙ্গিত, কাটতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গের দহনজ্বালা!

টানা তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠছে কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের মানুষের। তীব্র রোদ আর বাতাসে অত্যধিক জলীয় বাষ্পের কারণে দিনভর চলছে হাঁসফাঁস দশা। তবে এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে অবশেষে মিলতে চলেছে মুক্তি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী বুধবারের পর থেকেই আবহাওয়ার এক বড়সড় পরিবর্তন ঘটতে চলেছে, যার জেরে নামবে বহুকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি।
রবিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আকাশে মেঘের আনাগোনা এবং ঠান্ডা হাওয়ার দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। মেঘ কেটে গিয়ে চড়চড় করে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ঘর্মাক্ত অস্বস্তি। এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়ায় ২৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি থাকার কারণেই মূলত এই তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই মুহূর্তে দক্ষিণ বিহার এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলার প্রভাবেই মূলত বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে শুরু করবে, যা আগামী ২৭ মে, বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার ভোল বদলে দেবে।
ঝড়বৃষ্টির দাপট ও সামগ্রিক প্রভাব
আগামী বুধবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে। সপ্তাহের শেষভাগে, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। কিছু কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে গত কয়েক সপ্তাহের একটানা তৈরি হওয়া তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি প্রশমিত হবে এবং তাপমাত্রার পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই নিচে নামবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে আগে থেকেই ভারী বৃষ্টির ধারা বজায় রয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিংয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি থাকায় সেখানে গরমের প্রভাব অনেকটাই কম।