নৃশংস হত্যাকাণ্ড: বন্ধুর প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলায় প্রাণ গেল তিন যুবকের

হোলি উদযাপনের মাঝেই রক্তস্নাত বেঙ্গালুরু, প্রেম আর মদ্যপানের জেরে ঝরল তিন যুবকের প্রাণ
বেঙ্গালুরুর সারজাপুর এলাকার এক অখ্যাত অ্যাপার্টমেন্টে হোলির উৎসব পরিণত হলো এক মর্মান্তিক মৃত্যুপুরীতে। বিহারের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা তিন যুবকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কর্মসংস্থানের খোঁজে নতুন শহরে পা রাখা কয়েকজন তরুণের জীবন এমন অকাল সমাপ্তি ঘটবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি তাদের পরিবার।
প্রেমের টানাপোড়েন ও মধ্যরাতের কল
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার মূলে ছিল এক জটিল প্রেমের সম্পর্ক। গোপালগঞ্জের এক তরুণীর সঙ্গে তার ভাইয়ের এক বন্ধুর দীর্ঘদিনের পরিচয় ও প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাতে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ওই যুবকরা যখন হোলির পার্টিতে মত্ত, তখন ওই তরুণীর একটি ফোন আসে। সেই ফোনটি রিসিভ করেন ওই যুবকের এক বন্ধু, যা থেকেই সূত্রপাত হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের। মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধই বড় ধরনের বিবাদের জন্ম দেয়।
মদ্যপ অবস্থায় চরম পরিণতির দিকে
পার্টিতে মদ্যপ অবস্থায় থাকা যুবকদের মধ্যে এই সামান্য কথা কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যে হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। উত্তেজনার বশে এক যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে বন্ধুদের ওপর চড়াও হয়। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন যুবকের মৃত্যু হয় এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২ মার্চই কাজের সন্ধানে তারা বেঙ্গালুরুতে এসেছিলেন, কিন্তু উৎসবের আনন্দ নিমিষেই বিষাদে রূপ নিল।
পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পলাতক অপর একজনকে খুঁজছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের দেহ তাদের নিজ গ্রাম গোপালগঞ্জে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এক তুচ্ছ ব্যক্তিগত ঝগড়া কীভাবে তিনটি প্রাণ কেড়ে নিয়ে ভেঙে দিল একাধিক পরিবারকে, তা নিয়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।