মুখহীন প্রাণীদের হয়ে মানবিকতার আর্জি, পথকুকুর ইস্যুতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রবিনার

মুখহীন প্রাণীদের হয়ে মানবিকতার আর্জি, পথকুকুর ইস্যুতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রবিনার

পাঞ্জাবে পথকুকুরদের নিয়ে শুরু হওয়া বিশেষ প্রশাসনিক অভিযানের বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন বলিউড অভিনেত্রী রবিনা টন্ডন। রাজ্যের পথকুকুরদের ধরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টের পাশাপাশি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই বিষয়ে একটি বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আর্জি, পথকুকুরদের সরানোর এই পুরো কাজটি যেন অত্যন্ত মানবিক উপায়ে সম্পন্ন করা হয়।

অভিযানের নেপথ্য কারণ

সম্প্রতি পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। এলাকাগুলোকে বিপদমুক্ত করতে পথকুকুরদের ধরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পরই বহু কুকুরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে, যা দেখে পশুপ্রেমী অভিনেত্রী রবিনা নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি।

মানবিকতার পরীক্ষা ও স্থায়ী সমাধানের বার্তা

নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, আমরা কীভাবে সেই সব প্রাণীদের সঙ্গে ব্যবহার করছি, যারা নিজেদের হয়ে কথা বলতে পারে না, সেটাই আমাদের মানবিকতার আসল পরীক্ষা। এর পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, অসহায় কুকুরদের সঙ্গে যেন কোনও রকম নিষ্ঠুর আচরণ না করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটিতে যেন মানবিকতার ছোঁয়া থাকে।

প্রাণী অধিকার রক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন রবিনা টন্ডন। এর আগেও বিভিন্ন সময় পশুদের উপর অত্যাচার বা অবহেলার বিরুদ্ধে তাঁকে দৃঢ়ভাবে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। তাঁর মতে, পথকুকুরের সমস্যা সমাধানের জন্য শুধুমাত্র তাদের ধরে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। এর চেয়ে বরং নির্বীজকরণ, টিকাকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। অভিনেত্রীর এই যুক্তিসঙ্গত বক্তব্যকে তাঁর অনুরাগীদের একাংশও সামাজিক মাধ্যমে দারুণভাবে সমর্থন জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *