মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠলেন গর্বিত মা ফারাহ খান, তিন সন্তানের গ্র্যাজুয়েশনে আবেগঘন বলিউড

বলিউডের কড়া পরিচালক ও নিখুঁত কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান সব পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে একজন মা হিসেবেই সবচেয়ে বেশি গর্বিত মনে করেন। সম্প্রতি তাঁর সেই মাতৃত্বেরই এক অনন্য ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফারাহর তিন সন্তান ডিভা, আনিয়া এবং জার একসঙ্গে ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে তাদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। সন্তানদের জীবনের এই বিশেষ অধ্যায়ের সূচনা লগ্নে দর্শকাসনে বসে আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই তারকা পরিচালক।
গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ফারাহ খান। সেখানে দেখা যায়, প্রধান অতিথি ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পি ভি সিন্ধুর হাত থেকে সার্টিফিকেট নিচ্ছে ফারাহর তিন সন্তান। সেই মুহূর্তে দর্শকাসন থেকে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ফারাহকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “মাথা উঁচু করো!” নীল রঙের গ্র্যাজুয়েশন পোশাক ও মাথায় ক্যাপ পরা সন্তানদের কৃতিত্বে একজন মায়ের এই স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস উপস্থিত সবাইকে আন্দোলিত করেছে। আলিয়া ভাট, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, করিশমা কাপুরসহ বলিউডের বহু তারকা এই সাফল্যে ফারাহ ও তাঁর সন্তানদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।
সাফল্যের নেপথ্যে ব্যক্তিগত লড়াই
সন্তানদের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে ফারাহ খানের এক দীর্ঘ ব্যক্তিগত লড়াই। বিগত সময়ে যখন তাঁর হাতে কোনো সিনেমার পরিচালনা ছিল না, তখন সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি নতুন এক পথ বেছে নিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন মাধ্যমে গিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বর্তমানে তাঁর সেই রান্নার চ্যানেলটি দর্শকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। মূলত ক্যারিয়ারের কঠিন সময়েও সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার তাগিদই ফারাহকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছিল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষা
বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ফারাহর তিন সন্তানই এখন বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। জানা গেছে, ডিভা বস্টন ও মায়ামির একটি আন্তর্জাতিক কলেজে ব্যবসা ও ফিন্যান্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চলেছে। আনিয়া অর্থনীতি এবং ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। অন্যদিকে জার ভর্তি হচ্ছে ইমোরি ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে তার পড়ার বিষয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অফ বিজনেস।
গ্ল্যামার দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এই ঘটনাটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পেশাদার জীবনে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি পরিচালনা কিংবা রিয়্যালিটি শো সঞ্চালনা করলেও, দিনশেষে সন্তানদের এই জয়যাত্রা একজন মায়ের কাছে যেকোনো চলচ্চিত্র পুরস্কারের চেয়েও বড় প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।