কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি! পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি ইরান, ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি?

কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি! পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি ইরান, ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি?

পরমাণু চুক্তি নিয়ে বরফ গলছে! ইউরেনিয়াম মজুত ছাড়তে রাজি ইরান

পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে শান্তি ফেরাতে এক ঐতিহাসিক সমঝোতার পথে হাঁটছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের শত্রুতা বন্ধ এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই বৃহত্তর শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরেনিয়াম নিয়ে জট ও মার্কিন চাপ

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র মতে, বর্তমানে ইরানের কাছে অস্ত্র-মানের কাছাকাছি প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। মার্কিন আধিকারিকদের কড়া অবস্থান ও সামরিক অভিযানের সতর্কবার্তার পর ইরান এই মজুত ছাড়ার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই ইউরেনিয়াম উপাদান স্থানান্তর, পাতলা বা নিষ্ক্রিয় করার সঠিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে পরবর্তী পর্যায়ের পরমাণু আলোচনা শুরু হবে।

কারণ ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব

বিগত দিনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দুই দেশের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপই তেহরানকে এই সমঝোতার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কাটার পাশাপাশি বিদেশে জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তি পাবে। তবে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের ভিন্ন প্রস্তাব আগামী দিনে আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

এক ঝলকে

  • পশ্চিম এশিয়ায় শত্রুতা বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী খুলতে ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত।
  • মার্কিন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারির মুখে পরমাণু বোমা তৈরির যোগ্য ইউরেনিয়াম মজুত ছাড়তে রাজি হয়েছে ইরান।
  • আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় বা স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
  • চুক্তির বিনিময়ে বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তেহরানের সামনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *