কলকাতায় এবার ‘যোগী মডেল’! কুণালের খাসতালুকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে চলল শুভেন্দুর বুলডোজার

তৃণমূলের খাসতালুকে এবার বুলডোজার অ্যাকশন! গুড়িয়ে দেওয়া হলো বেলেঘাটার পার্টি অফিস
বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার মডেল’ অনুসরণে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ শুরু করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন বিজেপি সরকার। শনিবার খাস কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন ও কঠোর উচ্ছেদ অভিযান দেখা গেল।
জমি দখলমুক্ত ও প্রশাসনের তৎপরতা
প্রশাসনের দাবি, বেলেঘাটার ওই পার্টি অফিসটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এক ব্যক্তির নিজস্ব জমিতে জবরদখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল। রাজ্যে সরকার বদল হতেই জমির আসল মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপরতা দেখায় প্রশাসন এবং অবৈধভাবে নির্মিত তৃণমূল কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়। রাজনৈতিকভাবে বেলেঘাটা এলাকাটি তৃণমূলের অত্যন্ত শক্ত ঘাঁটি এবং বিদায়ী বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকেই জয়ী হয়েছেন দলের পরিচিত মুখ কুণাল ঘোষ। ফলে এই খাসতালুকে দলীয় কার্যালয় ভাঙার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।
কারণ ও দূরগামী প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি জবরদখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই নীতি কার্যকর করতেই প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই পদক্ষেপের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই, এটি সম্পূর্ণ জবরদখল বিরোধী অভিযান। ইতিমধ্যে কলকাতার তিলজলা ও পার্ক সার্কাস ছাড়াও হাওড়া, নন্দীগ্রাম এবং মেমারিতে একাধিক বেআইনি কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও বড় অভিযানের পথ প্রশস্ত করল।
এক ঝলকে
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে কলকাতায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে চলল বুলডোজার।
- বেলেঘাটায় এক ব্যক্তির নিজস্ব জমি জবরদখল করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছিল।
- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন এটিকে জবরদখল বিরোধী আইনি পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে।
- তিলজলা, পার্ক সার্কাস, হাওড়া ও নন্দীগ্রামের পর বেলেঘাটার এই ঘটনা প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করল।