ফলতায় পদ্মঝড়, দশম রাউন্ড শেষে বিপুল ভোটে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা

ফলতায় পদ্মঝড়, দশম রাউন্ড শেষে বিপুল ভোটে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। প্রথম থেকেই গণনায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দশম রাউন্ডের গণনা শেষে প্রতিপক্ষদের বহু পেছনে ফেলে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ফল চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

দশম রাউন্ডের ভোটচিত্র ও পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দশম রাউন্ডের ভোটগণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৩৮টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুড়মি ২৫ হাজার ২৯৮টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৪২৯টি ভোট। তবে সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে। ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান মাত্র ৩ হাজার ৩০৪টি ভোট পেয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছেন। শতাংশের বিচারে যা নজিরবিহীনভাবে কম।

তৃণমূলের বিপর্যয় ও রাজনৈতিক প্রভাব

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি ঐতিহ্যগতভাবেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ভোটগ্রহণের ঠিক দুদিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের আকস্মিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেয়। তৃণমূল প্রার্থীর নির্বাচনী ময়দান ত্যাগের ফলে ভোটদাতাদের বড় অংশই বিকল্প পথের সন্ধান করেছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী ফলাফলে, যার পূর্ণ ফায়দা তুলেছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের প্রার্থীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে এই ধস নেমেছে, যা সিপিএম এবং কংগ্রেসের চেয়েও নিচে নেমে চতুর্থ স্থানে পৌঁছানোর প্রধান কারণ।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও শান্তিপূর্ণ আবহ

গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। বিগত দফার অশান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো খামতি রাখেনি। গণনাকেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রতিটি রাউন্ডের গণনা এগিয়ে চলছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় কড়া পুলিশি টহল জারি রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *