কথা রাখলেন শুভেন্দু, বহু প্রতীক্ষিত নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজ তৈরিতে নামল জেলা প্রশাসন!

কথা রাখলেন শুভেন্দু, বহু প্রতীক্ষিত নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজ তৈরিতে নামল জেলা প্রশাসন!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপর হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নন্দীগ্রাম-হলদিয়া সংযোগকারী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে দ্রুত কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রবিবারই প্রথম নন্দীগ্রামে জনসভা করতে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক তার আগের দিন, শনিবার হলদি নদীর ধারে প্রস্তাবিত ব্রিজ নির্মাণের জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন হলদিয়ার মহকুমাশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

সেতু নির্মাণের তৎপরতা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

হলদিয়া ও নন্দীগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তীর্ণ হলদি নদীর ওপর একটি ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। বিগত নির্বাচনে দুই রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষ থেকেই এই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়লাভের পর নিয়ম রক্ষার্থে আসনটি ছাড়লেও, তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় জেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। শনিবারের এই প্রাথমিক সমীক্ষায় হলদিয়ার মহকুমাশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার ইঞ্জিনিয়ার, বিডিও, ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধিরা।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও জনসভার প্রস্তুতি

ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার বাসিন্দাদের যাতায়াতে প্রচুর সময় অপচয় হতো। এই সেতুটি নির্মিত হলে পূর্ব মেদিনীপুরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার মধ্যে দূরত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নন্দীগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আজ রবিবার বিকেলে এই প্রথম নন্দীগ্রামে জনসভা করতে চলেছেন তিনি। সেখানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মঞ্চ। এই ঐতিহাসিক সভা থেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রস্তাবিত সেতু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী রূপরেখা ঘোষণা করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গোটা জেলার মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *