শহরের ৫ জায়গায় জোরকদমে বুলডোজার অ্যাকশন, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে কড়া পদক্ষেপ পুরসভার

দুর্নীতি ও নিয়মের লঙ্ঘনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে বড়সড় অভিযানে নামল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশিকার পর রবিবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ। বেলেঘাটা, তিলজলা এবং কসবা সহ মোট ৫টি স্পর্শকাতর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পুরসভার ডেমোলিশন টিম একযোগে এই বুলডোজার অ্যাকশন চালায়।
তিলজলা ও বেলেঘাটায় জোড়া অভিযান
তিলজলা এলাকায় সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে দুই জনের মৃত্যুর পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। অগ্নিসুরক্ষা বিধি অমান্য করা এবং অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রবিবার সকালে তিলজলার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছে যায় পুরসভার বুলডোজার।
অন্যদিকে, বেলেঘাটা থানা এলাকার ইস্ট কুরিয়া রোডে এক দাপুটে রাজনৈতিক নেতার একটি নির্মীয়মান অবৈধ বহুতল ভাঙার কাজ শুরু হয়। গত ২১ মে পুরসভার পক্ষ থেকে ওই ভবনে নোটিস ঝুলিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৈধ নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় এদিন সকালে প্রথমে হাতুড়ি-গাঁইতি এবং পরে বুলডোজার দিয়ে বেআইনি কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
কসবায় পুরমন্ত্রীর পরিদর্শন ও কঠোর বার্তা
জমি কেলেঙ্কারিতে ধৃত সোনা পাপ্পুর এলাকা হিসেবে পরিচিত কসবাতেও এদিন সকাল থেকে চলে তীব্র উচ্ছেদ অভিযান। সঠিক নিয়ম না মেনে কীভাবে সেখানে পাঁচতলা বিল্ডিং গড়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে সশরীরে হাজির হন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি পরিস্থিতির তদারকি করার পাশাপাশি পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পুরমন্ত্রী সাফ জানান যে, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এবং আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এই ধরনের অসংখ্য বেআইনি নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার এই বেনিয়মে জড়িত কাউকেই রেয়াত করবে না। তবে ভাঙার কাজের সময় যাতে আশেপাশের বৈধ বাড়িগুলির কোনো ক্ষতি না হয়, সেই বিষয়েও পুরসভাকে সতর্ক করেছেন তিনি। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে শহরের অবৈধ নির্মাণকারীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।