সীমান্তে নতুন কাঁটাতার বসতেই কি হাসিনা ইস্যু উসকে দিল ঢাকা!

পশ্চিমবঙ্গের অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হতেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক মহল। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের তরফ থেকে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার বসানোর জন্য জমিদান এবং কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত আসতেই ঢাকার রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ইস্যু নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে আইনি পথে দেশে ফেরানোর বার্তা দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার।
কূটনৈতিক চাল বনাম সীমান্ত প্রাচীর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষিত করার ভারতীয় উদ্যোগের পালটা দিতেই ঢাকা এখন হাসিনা ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরতে চান, তবে আইন মেনে ধাপে ধাপে কাজ করা হবে। প্রয়োজনে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে পারে তারেক রহমানের সরকার। অথচ এর আগে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে হাসিনার ফাঁসির সাজা হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার নতুন সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখায়নি। ভারতের সীমান্ত নীতি কড়া হতেই বাংলাদেশের এই অবস্থান পরিবর্তনকে একটি সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কের টানাপোড়েন
এই টানাপোড়েনের ফলে দুই দেশের সম্পর্কে এক ধরনের শীতলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে ভারতের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে সীমান্ত কঠোর করার দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ এই বিষয়টিকে পুরোপুরি সহজভাবে নিতে পারছে না। হাসিনা ইস্যুকে খুঁচিয়ে তুলে ঢাকা কার্যত নয়াদিল্লির ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে। ফলে আগামী দিনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ—দুই ইস্যুতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।