ক্ষমতা হারাতেই কি আরও কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির, এবার হাতছাড়া হচ্ছে কলকাতার অস্থায়ী সদর দফতরও!

ভোটের ভরাডুবির পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও ভাঙনের আবহে এবার কলকাতার অস্থায়ী সদর দফতরটিও হারাতে চলেছে ঘাসফুল শিবির। পূর্ব কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের পাশে যে ভবনটিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অস্থায়ী সদর দফতর বা ‘তৃণমূল ভবন’ হিসেবে ব্যবহার করছিল, সেটি আগামী দুই মাসের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন বাড়ির মালিক। লোকসভা নির্বাচনের পর দল ক্ষমতাচ্যুত হতেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতা নাকি চুক্তির মেয়াদ শেষ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ক্ষমতা হারানোর পর এই নতুন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই ভবনের মালিক। তিনি ইতিমধ্যেই মৌখিকভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাড়ি খালি করার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও প্রকাশ্যে বাড়ির মালিকের দাবি, লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই তিনি বাড়িটি ফেরত চাচ্ছেন। ২০২২ সালে তোপসিয়ায় তৃণমূলের মূল দলীয় কার্যালয় পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এই ভবনটিই ছিল দলের প্রধান চালিকাশক্তি।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
হঠাৎ করে মূল কার্যালয় ছেড়ে দেওয়ার এই নির্দেশে তৃণমূলের অন্দরে চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একের পর এক নেতার দলবিরোধী মন্তব্য এবং সাম্প্রতিক সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মাঝে সদর দফতর হারানোর এই ঘটনা দলের কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে দিতে পারে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, তোপসিয়ার আসল সদর দফতরটি প্রায় তৈরি হয়ে গেছে। অস্থায়ী ভবনের মালিকের সঙ্গে লিজ সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং এই নিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে দল প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। খুব শীঘ্রই তৃণমূল তাদের নিজস্ব মূল কার্যালয়ে ফিরে যাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।