টলিউডে টালমাটাল পরিস্থিতি, ইমপা সভাপতি পদ থেকে অপসারিত পিয়া সেনগুপ্ত

টলিউডে টালমাটাল পরিস্থিতি, ইমপা সভাপতি পদ থেকে অপসারিত পিয়া সেনগুপ্ত

বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ও ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত মিলল। ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইমপা-র সভাপতি পদ থেকে পিয়া সেনগুপ্তকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে টালিগঞ্জে। শুক্রবার সংগঠনের অফিসে বৈঠক চলাকালীন প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশের সাথে বিদায়ী সভাপতির তুমুল বচসা বাঁধে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দু’পক্ষই শেষ পর্যন্ত বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়। পিয়া সেনগুপ্তের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই নাটকীয় অপসারণকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম স্টুডিও পাড়া।

অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও ক্ষমতার পালাবদল

ইমপা সূত্রে খবর, সংগঠনের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। বিরোধী শিবিরের প্রযোজক ও পরিবেশকদের দাবি, ইমপাকে কার্যত রাজনৈতিক পার্টি অফিসে পরিণত করা হয়েছিল। শুক্রবারের বৈঠকে ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পিয়া সেনগুপ্তকে সরিয়ে বিশিষ্ট প্রযোজক রতন সাহাকে আপাতত অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনের পর স্থায়ী সভাপতি নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক-পরিবেশকদের প্রধান মুখ শতদীপ সাহা। যদিও পিয়া সেনগুপ্ত সহজে চেয়ার ছাড়তে রাজি হননি এবং অসুস্থ অবস্থাতেই তিনি থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

টালিগঞ্জের এই সাম্প্রতিক ডামাডোলের পেছনে রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া স্পষ্ট। নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এই প্রসঙ্গে সাফ জানিয়েছেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে যা পরিবর্তন হবে তা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হবে। বিদায়ী সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তাঁকে আইনি ও গণতান্ত্রিক পথেই প্রমাণ করতে হবে। বিদায়ীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, অতীতে হওয়া অন্যায়ের কারণেই মানুষ এখন ফুঁসছেন এবং তার প্রভাব ইমপার ওপর পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রদবদল কেবল একটি সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং টলিউডের সামগ্রিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিবর্তনের আগাম আভাস। এর ফলে আগামী দিনে স্টুডিও পাড়ার প্রশাসনিক ও পেশাদারী পরিবেশেও বড় ধরনের সংস্কার আসতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *