দক্ষিণবঙ্গে স্বস্তির বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস, ভ্যাপসা গরম থেকে কি মিলবে রেহাই?

হাঁসফাঁস গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত কলকাতাবাসীর। দক্ষিণবঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। তবে এরই মধ্যে এক বড় স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং কালবৈশাখীর প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং দক্ষিণ বিহার ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় রাজ্যের আবহাওয়ায় এই বড় বদল ঘটতে চলেছে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে উত্তর এবং দক্ষিণ, উভয় বঙ্গের ২৩টি জেলাতেই বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ঘূর্ণাবর্ত ও জলীয় বাষ্পের জোড়া ধাক্কা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান তীব্র অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মূল কারণ বাতাসে অত্যধিক আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ। তবে এই গুমোট পরিস্থিতি কাটাতে সক্রিয় হচ্ছে প্রকৃতি। দক্ষিণ বিহারের ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা জলীয় বাষ্পের জেরে আগামী কয়েকদিন সমগ্র রাজ্য জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এর প্রভাবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ২৫ এবং ২৬ মে পর্যন্ত তীব্র অস্বস্তি বজায় থাকলেও, বুধবার ২৭ মে থেকে আবহাওয়ার দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটবে এবং পরবর্তী ২-৩ দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
কলকাতার আবহাওয়া ও উত্তরবঙ্গের সতর্কতা
কলকাতায় সকালের দিকে আংশিক মেঘলা আকাশ ও ঠান্ডা হাওয়া থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়া রোদ এবং ঘর্মাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মহানগরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নাগাদ জোরালো ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকলেও, আজ বিকেলের দিকেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া স্বস্তি আনতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রকৃতির রূপ আরও কিছুটা আগ্রাসী। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা রয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া-সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা বুধবার থেকে কিছুটা কমতে পারে। এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার জেরে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বৃষ্টির পর ফের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহবিদরা।