অতিরিক্ত বেতনের লোভে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ ভারতীয়! সুপ্রিম কোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল কেন্দ্র

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ২১৭ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানিয়েছেন, মৃতদের সংখ্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও কেউ প্রাণ হারিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে রাশিয়ার ভারতীয় দূতাবাস সে দেশের সরকারের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া নিখোঁজ ৬ জন ভারতীয়ের সন্ধান চালানো হচ্ছে এবং সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি পাওয়া ১৩৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে।
প্রলোভনের ফাঁদ ও বাধ্যতামূলক যুদ্ধ
তদন্ত ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মূলত আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজ, সামাজিক সুরক্ষা, মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় যুবকদের রুশ সেনাবাহিনীতে যোগদানে আকৃষ্ট করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ চাকরির টোপ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি রাশিয়ার জেলে মাদক মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে বন্দি থাকা ভারতীয় ছাত্রদেরও জেলমুক্তির লোভ দেখিয়ে সামরিক চুক্তিতে সই করানো হয়। কিশোর সারাভানান এবং সাহিল মহামধুসেন নামের দুই ভারতীয় ছাত্রের উদাহরণ দিয়ে কেন্দ্র জানায়, সরকারি হস্তক্ষেপে কিশোরকে উদ্ধার করা গেলেও সাহিল ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
ভূরাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ প্রভাব
২০২৪ সালের শুরুর দিকে প্রথম এই মানব পাচার ও জোরপূর্বক নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সংকট এবং যুবসমাজের বিদেশে বিপজ্জনক ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মস্কোর সাথে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি সংবেদনশীল পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করায়, জীবিত সকল ভারতীয়কে নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা এখন মোদী সরকারের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।